ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জিয়াউল আহসানের বোন আইনজীবী নাজনীন নাহারের ব্যাংক হিসাব তলব উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের ২৪ দিন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ থাকবে শ্রেণি কার্যক্রম ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কেটে মৃত ভেবে শিশু ইরাকে ফেলে যান বাবু শেখ চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট অফিসে এসে ৪০ মিনিট বাধ্যতামূলক অবস্থান করতে হবে সরকারি কর্মচারীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ‘রাজত্ব’, এক সপ্তাহে ৪ জন নিহত   সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • আমার কথা ও জাতির জনককে হত্যা

    আমার কথা ও জাতির জনককে হত্যা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সেদিন যারা আমার সাথে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের মধ্যে অনেকে এখন মৃত্যুবরণ করেছেন। যুবনেতা সিদ্দিকুর রহমান ১৯৭৯ সালে বরগুনা থেকে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এরশাদের কারচুপির নির্বাচনে তিনি হেরে যান। ঢাকায় ১৯৮৬ সালের ২৯ জুন তিনি হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। সিদ্দিকুর রহমানের মতো সাহসী বাংলাদেশে কম ছিল। আর এক প্রতিবাদী কন্ঠ নিজামউদ্দিন আহমেদ ১৯৮৬ সালে আমতলী থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে এরশাদের সৈ^রশাসনের বিরুদ্ধে বরগুনা ও ঢাকার নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালের ৯ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের বিজয় উৎসব পালনকালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্স্টিটিউশনের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নির্মমভাবে তিনি নিহত হন। সেদিন সকালে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়। মৃত্যুবরণ করেছেন বরগুনার যুব কন্ঠস^র এডভোকেট সুলতানউদ্দিন। ১৯৭৫ সালের প্রতিবাদী ছাত্রনেতা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বরগুনা থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উপমন্ত্রী ছিলেন। আমি তাদের জন্য গর্বিত।

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনী রচনা করতে গিয়ে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বরগুনার সেদিনের ৭ লক্ষ জনতাকে। তারা সেদিন আমার আহ্বানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ করেছে। আমার বিরুদ্ধে সামরিক সরকার একাধিক মামলা দায়ের করে। বরগুনার একজন লোকও আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়নি। পুলিশ বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল যে, আমি ১৫ আগস্ট প্রকাশ্যে রিভলভার দিয়ে জনগণকে ভয় দেখিয়েছি কি-না। আমার বিরুদ্ধে মামলা প্রমাণ করতে না পারায় সরকার আমাকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল। আমি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে বলেছিলাম, “আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করে গর্বিত, আমি ক্ষমা চাইতে পারি না”। আমার এ সঙ্কটকালে পিরোজপুরের কাউখালী নিবাসী শাহবাগস্থ গেজেটেড অফিসার ট্রেনিং একাডেমি (গোটা)-র পরিচালক সিরাজউদ্দীন আহমেদ, উপসচিব জালালউদ্দিন আহমেদ, সহকারী কমিশনার সৈয়দ আব্দুল মালেক আমাকে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। আমি তাদের নিকট কৃতজ্ঞ। তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব (সংস্থাপন) খন্দকার আসাদুজ্জামান সাহসের সাথে আমার বিরুদ্ধে আনীত রাজনৈতিক অভিযোগ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেন। আমি তার নিকটও কৃতজ্ঞ। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে অন্যান্য অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়ে ১৬ মাস পরে আমি চাকরিতে পুনর্বহাল হয়েছিলাম। 

    আমি ১৯৭৫ সালের পূর্বে লেখক ছিলাম না। ১৫ আগস্টে জাতির জনকের নির্মম হত্যার প্রতিবাদে আমি লেখক হতে বাধ্য হয়েছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অস্ত্র দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারিনি। তাই প্রতিবাদ জানাতে কলম ধরেছি। ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুকে বারবার দেখেছি। তার ভাষণ শুনেছি। তিনি ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে বরগুনায় এসেছেন। এ সময় তার সংস্পর্শে এসেছি। বরগুনার এমপি আসমত আলী সিকদারকে তিনি খুব ভালবাসতেন। শেখ ফজলুল হক খান, আসমত আলী সিকদার, সওগাতুল আলম সগীর, ফ্লাইট সার্জেন্ট মুহা¤মদ ফজলুল হক- বরিশাল বিএম কলেজে আমরা সতীর্থ ছিলাম। বিএম কলেজ থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এমএসসি পড়ার সময় ফজলুল হক বিমানবাহিনীতে যোগ দেন।  ১৯৬২ সালে শেখ মণি, আসমত,  সগীর ও আমি এমএ পাস করি। ১৯৬২ সালে সামরিক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আমরা সামনের কাতারে ছিলাম।  

    ১৯৬৪ সালে কনভোকেশনে গভর্নর মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকালে আমরা একই সাথে ছিলাম। শেখ মণি ও আসমত আলীর এমএ ডিগ্রী মোনায়েম খান কেড়ে নেয়। আজ শেখ মণি নেই। তাকে এবং তার স্ত্রীকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। এমনই সওগাতুল আলম সগীরকে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি আততায়ীরা হত্যা করে। আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত এবং সাবেক সংসদ সদস্য ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ১৯৯৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। আসমত আলী অসুস্থ আমি তাদের স্মৃতি বহন করছি।

    আমি বরগুনা জেলাবাসীর নিকট আজীবন কৃতজ্ঞ। বরগুনায় আমি ৭ বছর ছিলাম। আমার সতীর্থ আসমত আলী সিকদার ১৯৬৯ সালে বরগুনায় আইন ব্যবসা শুরু করেন। বরগুনার সিদ্দিকুর রহমান, নিজামউদ্দিনসহ অসংখ্য কর্মী বরগুনার বীরজনতা তার নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে। বরগুনার নেতা-কর্মী ও জনগণের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ আসমত আলী সিকদার ও আমি বরগুনা ক্লাব প্রাঙ্গণে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করি। বরগুনা নিবাসী আসমতও আমাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। বঙ্গবন্ধুুর হত্যার প্রতিবাদে আমাদের ওপর নির্যাতনকালে তারা সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন।

     

    ** সিরাজ উদ্দীন আহমেদ (লেখক- ইতিহাসবিদ- কলামিষ্ট)  


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ