জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে অচল সেচ পাম্প, বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে তীব্র লোডশেডিং, তার সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে ডিজেল সংকট এমন পরিস্থিতিতে বরিশালের বিভিন্ন জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। দিনে-রাতে সমানতালে লোডশেডিংয়ের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দাম বাড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত ডিজেল। জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ে অচল বিভিন্ন জেলায় সেচ পাম্প। এ অবস্থায় বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
বরিশালে প্রায় চার লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের সেচ নিয়ে উদ্বেগে আছেন কৃষকরা। একইসঙ্গে মাঠে থাকা তরমুজ নিয়েও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দাম বাড়লেও তেল পাচ্ছেন না, সেচও দিতে পারছেন না।
কৃষকরা বলছেন, দাম বাড়লেও কাটেনি ডিজেল সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদামাফিক ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটার প্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়। এ অবস্থায় ডিজেলচালিত সেচ পাম্প বন্ধ হয়ে আছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় বিঘা প্রতি সেচ খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ইলেকট্রিক পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। ধান গাছের ফুল আসা ও দানা বাঁধার সময়ে সেচ দিতে না পারলে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে।
জানা গেছে, বরিশালের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৮৭ হাজার সেচ পাম্প চালু রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৪ হাজারই ডিজেলচালিত। এসব পাম্প চালাতে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ লিটারের বেশি ডিজেল প্রয়োজন। ফলে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে বেশিরভাগই অচল হয়ে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে তিন লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ রোপণ সম্পন্ন হলেও এখন ধান গাছে থোর ও ফুল আসার স্পর্শকাতর সময়ে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। একদিকে বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন, অন্যদিকে ডিজেলের অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
অধিদফতরের তথ্যমতে, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বোরো ক্ষেতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও বৃষ্টির ঘাটতি ও ডিজেল নির্ভরতা সেচ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত শুরু হলে সেচ ব্যয় কমে আসবে এবং কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
এইচকেআর