আমতলীতে কচুরিপানার দখলে খালটি এখন মৃত প্রায়

বরগুনার আমতলী উপজেলায় অবস্থিত চাওড়া, ঘুঘুমারী ,রামজি খাল আর আগের মতো নেই। এক সময় এ খালের পানিতে মাছের বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্মল পানিতে মানুষের চোখ জুড়িয়ে যেত। সেই খালটি এখন কচুরিপানাসহ, শৈবাল,শ্যাওলা, জলজ উদ্ভিদের দখলে। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনায় সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।
দখল-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে আমতলীর এক সময়ের খরস্রোতা চাওড়া ঘুঘুমারী ,রামজির খাল। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এ খাল দিয়ে এক সময় বাশবুনিয়া, ধানখালী, রামনা নদী হয়ে ছোটবড় ট্রলারে ও নৌকায় পণ্য সামগ্রী আমতলীর বিভিন্ন হাটবাজারে আনা-নেয়া করতেন ব্যবসায়ীরা। খালের পানি ব্যবহৃত হতো এখানকার কৃষি জমির সেচের কাজে। কিন্তু বর্তমানে দূষণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী চাওড়া ,ঘুঘুমারী ,রামজি খাল । ময়লা আবর্জনায় ও অবৈধ দখলদারদের দখলে এক সময়ের খরস্রতা খালটির অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এক শ্রেণির প্রভাবশালী খালের দুই পাড়ে পাকা পিলার দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করে ও খালের মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলে দখল করে নিচ্ছে।
আমতলী পৌর এলাকা ছাড়াও হলদিয়াহাট বাজার, তালুকদার , চন্দ্রা বাজার, তুজির বাজার, বিশ্বাসের হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চাওড়া, ঘুঘুমারী ,রামজির খাল প্রভাবশালীরা দখল করে ভরাট করে নিয়েছে। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, এ খাল দিয়ে স্বাধীনতার পূর্বে ও স্বাধীনতার পরে নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে আমতলীর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র আমতলী থেকে গাজীপুর বিভিন্ন হাটবাজারে ও পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলায় মালামাল আনা-নেয়া হতো। এগুলো এখন শুধুই স্মৃতি।
এলাকাবাসী ও পৌরবাসীর দাবি খালটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক। এ ছাড়া আমতলীর কৃষি নির্ভর এলাকার কৃষকরা যাতে খালের পানি সেচ দিয়ে ফসল উৎপাদন করতে পারেন সেদিকে নজর দেয়া দরকার। এ এব্যাপারে আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.নাজমুল ইসলাম জানান,নকশা অনুযায়ী খালের যে অংশে দোকানপাট-বাড়ি বা যেকোনো স্থাপনা করে দখল করা হয়েছে, তা প্রথমে পৌরসভা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জায়গায় উচ্ছেদ করে খালটি উদ্ধার করা হবে। আমতলী পৌরসভার মেয়র মো.মতিয়ার রহমান জানান, বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্রস্বার্থ ত্যাগ করে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি দখলমুক্ত করে, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার ও পুনঃখনন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কচুরিপানা পরিস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রকল্প পাঠিয়েছেন। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম মুঠোফোনে বলেন, সুবান্ধি .চাওড়া, ঘুঘুমারী ,রামজি খালের পানি নিষ্কাশন ও কচুরীপানা অপসারণ ওয়াকওয়ে নির্মাণের ও আড়পাঙ্গাশিয়া, ঘটখালী ও আমতলী পৌরশহর রক্ষার জন্য ডিপিপি (ডকুমেন্ট অফ প্রজেক্ট প্রফর্মা) জমা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদ্বয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমতলী উপজেলার সুবান্ধীবাদ সংশ্লিষ্ট মানুষসহ উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানান।
এইচকেআর