বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনে বরিশালে প্রস্তুতি সম্পন্ন

জীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে নতুনত্বের বরণে শিল্পীদের তুলিতে রঙিন হয়ে উঠছে বরিশাল চারুকলা প্রাঙ্গণ। বাঙালির হাজার বছরের লোকজ আভিজাত্য আর শেকড়ের ঘ্রাণে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বরিশাল চারুকলায় গিয়ে দেখা যায়, শোভাযাত্রার প্রস্তুতির জন্য রঙ-তুলির আঁচড় আর বাঁশ-কাগজের কাটাকুটিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা।
সূত্র বলছে, এবারের বাংলা বর্ষবরণের শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে শোভা পাবে বিশাল আকৃতির টিয়া পাখি এবং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের নানা বৈচিত্র্যময় মুখোশ, যা শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এসব কাজে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী রনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ। প্রতি বছরই আমরা পরিশ্রম করি। এই অনুষ্ঠান সফল করতে।
চারুকলা বরিশালের সমন্বয়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, বাঙালির এই উৎসব মিশে আছে ফসলের ঘ্রাণে। হেমন্তের ধান কাটার পর নতুন বছরকে বরণ করার যে প্রথা, তা আজ রূপ নিয়েছে সার্বজনীন উৎসবে। এবারের বৈশাখি শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে পূর্ণতা দিতে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির টিয়া পাখি এবং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের নানা বৈচিত্র্যময় মুখোশ।
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শুভঙ্কর চক্রবর্তী জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল সকালে বরিশাল বিএম স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের শক্ত বার্তা দিতে চাই। এদিকে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) স্কুল মাঠে উদীচী আয়োজন করেছে তিনদিনব্যাপী বৈশাখি মেলা। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে মাঠের কাজও। মেলায় প্রায় ৭০টি স্টল থাকবে।
উদীচী শিল্পী-গোষ্ঠী বরিশাল জেলা সংসদের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল খায়ের সবুজ বলেন, ৪৪ বছর ধরে বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখি মেলার আয়োজন করে আসছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। পহেলা বৈশাখের সকালে প্রভাতি অনুষ্ঠান। এরপর গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শিল্পীরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন।
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠান শেষে চারুকলা বরিশালের ব্যানারে অংশগ্রহণকারীরা বের করবেন আনন্দ শোভাযাত্রা, যা বিএম স্কুল থেকে শুরু হয়ে নগরীর সদর রোডে গিয়ে শেষ হবে। মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শুধু চারুকলা আর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নয়, বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে বরিশালের ৩৫টি সাংস্কৃতিক সংগঠনে চলছে কর্মব্যস্ততা।