এসএসসির ফলে অসন্তোষ: ৪ লাখ শিক্ষার্থীর প্রায় ১৩ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তোষ থেকে এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণেও বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে এ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
অনেক শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছে।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছে।
এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী বোর্ডে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে, এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হবে। এতদিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে মূলত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো।
এবার পুনর্মূল্যায়ন করা হবে- এমন ঘোষণায় আবেদন বেড়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য শিক্ষার্থীরা বেশি আবেদন করেছে। পাশাপাশি ফেল ও খারাপ ফল বেশি হওয়ায় অনেকে অসন্তুষ্ট থাকতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। ফল প্রকাশেও কিছুটা দেরি হতে পারে।
এইচকেআর