বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান

বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনের ৪৭তম দিনে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন অলিম্পিক সিমেন্ট ও ফাইবার কারখানার শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে মিছিল বের করে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ওভারটাইমসহ বিভিন্ন ভাতা, চার মাসের নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট, ছুটির পাওনাসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহসাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার, সহসভাপতি হান্নান হাওলাদার, অলিম্পিক সিমেন্ট ট্রাক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড প্রতিনিধি মো. ফারুক, অফিসারদের প্রতিনিধি আইটি অফিসার জিয়াউল হক জিয়া ও ইলেকট্রিক ফোরম্যান শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুকুমনি এবং গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড ফার্মাসিউটিক্যাল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শাহাদাত প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই গত ১১ জুন অলিম্পিক ফাইবার এবং ১৩ জুন অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কারখানা বন্ধের আগে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি বন্ধের ঘোষণাপত্রেও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
এ কারণে ১১ জুন থেকে সকল পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের ৪৭ দিন পার হলেও মালিকপক্ষ তিন দফা ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর বকেয়া বেতনের একাংশ পরিশোধ করেছে। তবে ওভারটাইমসহ বিভিন্ন ভাতা, চার মাসের নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট, ছুটির পাওনাসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা।
নেতৃবৃন্দ অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানার ৪১৯ শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রয়োজনে মালিকের সম্পদ জব্দ করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়। স্মারকলিপিতে জুলাই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এইচকেআর