চার দফা দাবিতে মহাসড়কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের চার দফা দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়ক আটকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।
অবরোধের ফলে ব্যস্ততম এই মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে একটি তেলবাহী লরির সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় তামিম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান সুরাহা বা আহতের পাশে দাঁড়ানোর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজ দুপুরে রাজপথে নেমে আসেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ঘোষিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী লরি চালককে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া এবং আহত শিক্ষার্থী তামিম হোসেনের সুচিকিৎসার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অবরোধের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থেকে স্লোগান দিতে থাকেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে এর আগেও ববি শিক্ষার্থীরা একাধিকবার একই কায়দায় সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণভাবে চালকের অসাবধানতার ফল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও প্রশাসন ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
এইচকেআর