ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • পুলিশের হেফাজত থেকে কয়েকঘন্টা পর মুক্তি পেলেন জাপা নেতা হাবুলসহ ৬ জন ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলো হাসানুল হক ইনুকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বিএনপি নেতা জিয়া সিকদার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ'লীগ নেতা হিরশিৎ ও সঞ্জিত মন্ডল বিরুদ্ধে সাতলায় মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ   ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩৪৯০ যাত্রী মমতা ব্যানার্জীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ মার্কিন অস্ত্রেও সুরক্ষা নেই, সৌদি আরবকে নাস্তানাবুদ করছে হুথিরা কলাপাড়ায় গর্ভবতী নারীকে মারধর ও সন্তান হত্যার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের প্রভাবে ঢাক-ঢোল কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা
  • ঝালকাঠিতে সেমাই কারখানায় শিশুশ্রম, ঘণ্টায় মেলে ৮ টাকা

    ঝালকাঠিতে সেমাই কারখানায় শিশুশ্রম, ঘণ্টায় মেলে ৮ টাকা
    ছবি: সংগৃহীত 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    তেলে ভেজে সেমাই প্রস্তুতের পর প্যাকেটজাত করে ২৫টি প্যাকেটের একটি কার্টন তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এতে মজুরি দেওয়া হচ্ছে মাত্র আট টাকা। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো শ্রমিকের কাজ না, এটা করানো হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়সী শিশুদের দিয়ে।

    শিশুশ্রম বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনাকে অমান্য করছেন সেমাই কারখানার মালিকরা। এমনটাই দেখা গেছে ঝালকাঠি শহরের ছয়টি সেমাই কারখানা ঘুরে।

    কথা বলে জানা গেলো, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া গ্রামের শ্রমজীবী রিপন ভাড়া থাকেন শহরের লঞ্চঘাট এলাকায়। তার কিশোর ছেলে (১৫) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছয় সদস্যের সংসারে রিপনের একার আয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। তাই বাবাকে সহায়তার জন্য কাজে নেমেছে ছেলে।

    একইভাবে পটুয়াখালীর বাসিন্দা আবুল কাশেম ভাড়া থাকেন ঝালকাঠি শহরের বান্দাঘাট এলাকায়। তার ছেলে (১৪) একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পাঁচজনের পরিবারে কাশেমের একার আয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য তাই বাবাকে সহায়তার জন্য কাজে এসেছে ছেলে। শহরের কাঠপট্টি এলাকায় জেদ্দা সেমাই কারখানায় তারা কাজ করছে।


    আলাপচারিতায় ওই কিশোররা জানালো, স্কুলে পড়ার পাশাপাশি একেক সময় একেক কাজ করতে হয়। এখন রমজান মাসে সেমাই তৈরির মৌসুম। তাই তারা সেমাই কারখানায় কাজ করছে। তেলে ভাজা সেমাই প্যাকেটে ভরে ওজন দিয়ে মুখ আটকিয়ে ২৫টি প্যাকেট দিয়ে একটি কার্টন প্রস্তুত করতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এর বিনিময়ে তাদের দেওয়া হয় আট টাকা। এই বেতনে কাজের গতি অনুযায়ী সারাদিনে ১৩০/১৫০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব হয়। মালিকের কাছে মজুরি বাড়িয়ে চাইলে তারা কাজ ছেড়ে দিতে বলেন।

    শুধু জেদ্দা সেমাই কারখানায়ই নয় মক্কা, মদিনা, মিনার, কুলসুম এবং সূর্যমুখী নামে সেমাই কারখানায়ও রয়েছে এমন শিশু শ্রমিক। রমজান এবং ঈদকে কেন্দ্র করে এসব কারখানায় সেমাই তৈরিতে চলছে ধুম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছে এমন অজুহাত দেখান মিল মালিকরা। ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতও কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে এক কারখানা মালিক বলেন, অভাবের তাড়নায় তারা কাজে আসে। আমরা তাদের সাধ্যমতো বেতন দিয়ে কাজ করাই।

    ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, ঈদ বাজারে যেন কোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর পণ্য বাজারজাত করা না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। সেইসঙ্গে শিশু শ্রমও রয়েছে। আমরা যখনই অভিযানে নামি তখন খবর পেলেই শিশু শ্রমিকদের আড়ালে রাখে। আমরা ফিরলেই আবার কাজ শুরু করায়। যদি কেউ সামনে পড়ে যায়, তখনই অভিভাবকের সঙ্গে আসার দোহাই দেয়।

    তিনি আরও বলেন, এরইমধ্যে কয়েকটি সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরির দায়ে কয়েকটি কারখানায় জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ