ঢাকা রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • মেহেন্দিগঞ্জে খাজনার টাকা না দেয়ায় গাছসহ গাড়ি আটক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা চার দফা দাবিতে মহাসড়কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ছে হামের প্রকোপ: বরিশালে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৯ জন ৯ দফা দাবিতে বরিশালে ইজিবাইক-রিকশা শ্রমিকদের সমাবেশ এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু বরিশালে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা বরিশালে জমি দখলের উদ্দেশ্য বিএনপি নেতা ও স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে হামলা   গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে নীতিমালা করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
  • সুগন্ধায় লঞ্চ ট্রাজেডির এক বছর

    ‘প্রতি মুহূর্ত শিউরে উঠি, লাশের সারি চোখে ভাসে’

    ‘প্রতি মুহূর্ত শিউরে উঠি, লাশের সারি চোখে ভাসে’
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ‘চারদিকেই আগুন দাউ -দাউ করে জ্বলছিল। অথৈ পানি থাকা সত্ত্বেও আগুনে পানি দেয়ার মতো কারো সুযোগ ছিল না।

    অনেকের মতো আমরাও লঞ্চ থেকে লাফ দিই। প্রাণে বেঁচে যাই।  এক বছর পার হলেও প্রতি মুহূর্ত শিউরে উঠি। লাশের সারি চোখে ভাসে। ’

    ২০২১ সালের বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এভাবেই স্মৃতিচারণ করলেন মাধবী কর্মকার। তিনি বরগুনার পাথরঘাটার সাংবাদিক বিনয় ভূষন কর্মকার খোকনের সহধর্মিণী।

    সেদিন গভীর রাতে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি।  

    নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বাঁচলেও দুঃসহ সেই ঘটনায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি ও তার ছেলে-মেয়ে।

    মাধবী কর্মকার বলেন, এখনো মনে পড়লে আঁতকে উঠি। বিশেষ করে আমার ছেলে ও মেয়ে ওদের মনে এখনো ভয় কাজ করে। এ জন্য অনেক চিকিৎসাও করিয়েছি। এখনো ওদের মনের ধাক্কা ভুলতে পারেনি। মাঝে মধ্যে ঘুমের ঘোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। মৃত্যুর ভয়াবহতা এমন ছিল যে মৃত্যু কত যন্ত্রনা তা না দেখলে বোঝা যাবে না।  

    কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন সে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনজন যখন লঞ্চ থেকে লাফিয়ে নদীতে পড়ি। মেয়ে সাঁতার না জানায়  কয়েকবার হাত থেকে ছুটে গিয়েছিল। ছেলে শুভ আমাকে কুলে উঠিয়ে মেয়েকে খুঁজে পায়। মেয়েকে ফিরে পাবো ভাবতেও পারিনি। ভোর হওয়ার পর দেখি লাশ আর লাশ।


    মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা শুভ কর্মকার বলেন, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে কেবিন থেকে ব্যাগ নিয়ে তিনজন বের হয়ে লঞ্চের ডেকের সামনে যাত্রী ওঠা নামার স্থানে চলে আসি। প্রথমে মা শাড়ি পড়নে থাকায় তাকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেই। আমার হাত থেকে কয়েকবার মায়ের হাত ছুটে যায়। অনেক কষ্ট করে মাকে নিয়ে কুলে নিয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর লঞ্চে বোনকে আনতে যাই‌। সাঁতার না জানা বোন দেবস্মিতাকে নিয়ে ও ব্যাগ নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেই। কয়েকবার বোনের হাত ছুটে যায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে কাছাকাছি থাকায় সন্ধান পাই। বহু কষ্টে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হই।

    তিনি আরও বলেন, আমি একাই সাঁতার জানি, মা-বোন সাঁতার জানে না। সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি ও সাহস দিয়েছিলেন তখন। নদীতে ঝাঁপ না দিলে আগুনের লেলিহানে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতাম। পৃথিবীর আলো আর দেখতে পেতাম না।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ