ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • মেহেন্দিগঞ্জে খাজনার টাকা না দেয়ায় গাছসহ গাড়ি আটক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা চার দফা দাবিতে মহাসড়কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাড়ছে হামের প্রকোপ: বরিশালে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১৯ জন ৯ দফা দাবিতে বরিশালে ইজিবাইক-রিকশা শ্রমিকদের সমাবেশ এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু বরিশালে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা বরিশালে জমি দখলের উদ্দেশ্য বিএনপি নেতা ও স্কুল শিক্ষকের নেতৃত্বে হামলা   গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে নীতিমালা করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
  • রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর হানা

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর হানা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এখন প্রতি সপ্তাহেই আক্রান্তের হার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে।

    কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নতুন ৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এখন এই হাসপাতালে ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন এবং এর মধ্যে ৬ জন রোহিঙ্গা বলে জানান হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোমিনুর রহমান।

    হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক আব্দুল মজিদ জানান, সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডেও প্রতিদিন ডেঙ্গুরোগী আসছে। তবে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা।

    তিনি আরও জানান, আক্রান্তদের মধ্যে গত সপ্তাহে চার বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশু মারা গেছে। ওই শিশুর নাম জিসমা আক্তার। তার বাবার নাম কলিমউল্লাহ। এটিই রোহিঙ্গা শিবিরে ডেঙ্গুতে প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু বলে জানান তিনি।

    সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। এখন দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ক্যাম্পের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর কোন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেই কেবল ক্যাম্পের হাসপাতালগুলো থেকে জেলা সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

    কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের চিকিৎসা সমন্বয়ক ডা. আবু তোহা জানান, রোহিঙ্গা শিবিরে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের হার অনেক। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চারমাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা ছিল ২০০ এর কম। আর মে মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে।  

    তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলতি বছরের ১ম চার মাসে ডেঙ্গু ধরা পড়ে ১৭২ জনের। এরপর মে মাস থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে আগে যেখানে প্রতিমাসের পরিসংখ্যান রাখা হতো, সেখানে এখন প্রতি সপ্তাহের পরিসংখ্যান রাখা হচ্ছে।

    ডা. তোহা জানান, জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে ডেঙ্গু। এখন প্রতি সপ্তাহে আক্রান্তের হার হাজার ছাড়িয়েছে।

    তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু ধরা পড়ে ৮৪ জনের, ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ৯ জনের, মার্চ মাসে ১৭ জনের এবং এপ্রিলে ৬২ জনের। এরপর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৮ জন, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৫ জন, তৃতীয় সপ্তাহে ৭৬ জন এবং চতুর্থ সপ্তাহে ৯৭ জন ডেঙ্গুরোগী ধরা পড়ে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭ সালে দুই হাজার ৭৬৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। পরের বছর সেই সংখ্যা প্রায় চারগুণ বেড়ে ১০ হাজার ১৪৮ জনে দাঁড়ায়। আর এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জনে। এর মধ্যে ১৭৯ জন প্রাণ হারান।


    এমইউআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ