ঢাকা রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

সন্তান ফিরে পেতে পিতার সংবাদ সম্মেলন

সন্তান ফিরে পেতে পিতার সংবাদ সম্মেলন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে, দাম্পত্য জীবনে স্বামীর সাথে সাংসারিক ঘটনা নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার পরে স্ত্রীর প্রভাবশালী পরিবার সদস্যদের কু-পরামর্শে ঔরসজাত একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে পাঁচ বছর লাপাত্তা হওয়া স্ত্রী ও নিজের ঔরসজাত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ে নিজের কাছে ফিরে পেতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলার কাছে দাবি জানিয়েছেন এক হতভাগ্য পিতা। 

স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের লাপাত্তা হওয়ার বর্ণনা দিয়ে ঔরসজাত সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি জানিয়ে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. ইলিয়াস সরদার। 

 প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস সরদার তার লিখিত বক্তব্যে জানান, একই উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের সুনীল চন্দ্র চৌধুরীর ছোট মেয়ে ঐশ্বরিয়া চৌধুরী ডলির সাথে তার ১৫ বছর প্রেমের সম্পর্কর সূত্র ধরে প্রেমিকা ডলি সনাতন ধর্ম পরিত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে “দোলা খানম” নাম রেখে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ি কাজীর মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে তারা আগৈলঝাড়াতেই বসবাস করে আসছিলো। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। নাম রাখা হয় “ঐশ্বরিয়া জুনিয়র ইলা।”  লেখাপড়ার জন্য আগৈলঝাড়া উপজেলার ৪নং গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ২০০৮০৬১০২৪৭১০০৭৫২ ক্রমিক নম্বরে ইলার জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। জন্ম নিবন্ধনে “ঐশ্বরিয়া জুনিয়র ইলার জন্ম তারিখ ২৫ অক্টোবর- ২০০৮, পিতার নাম মো. ইলিয়াস সরদার, মাতার নাম দোলা খানম লেখা হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস অভিযোগে আরও বলেন, প্রায় ১০ বছর সংসার করার পরে ২০১৭ সালের ৩ জুন সাংসারিক বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য ঝগড়া-ঝাটির কারনে ডলি ওরফে দোলা খানম আমার একমাত্র মেয়ে ইলাকে নিয়ে কাউকে কিছু না বলে দোলার বাবার পরিবার সদস্যদের কু-পরামর্শে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।  সন্তানসহ স্ত্রী নিখোঁজের ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন ইলিয়াস, যার নং-১৮৭ (০৫-০৬-১৭)। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ৫ বছর পর স্ত্রী দোলা ও একমাত্র কন্যা সন্তানের খোঁজ মেলে তার বোন জামাতা ফরিদপুর জেলার সাবেক এসপি সুভাষ চন্দ্র সাহা’র ফরিদপুরের বাড়িতে। 

 ইলিয়াস অভিযোগে বলেন, নিজের স্ত্রী-সন্তানের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাদের সাথে দেখা করতে চাইলে সাবেক এসপি সুভাষ সাহা তার স্ত্রী ও সন্তানের সাথে কোন কথা বলতে দিচ্ছে না। উপয়ন্ত বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলায় হয়রানী করাসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে সাবেক এই পুলিশ সুপার।  এদিকে সাবেক এসপি সুভাষ সাহা তার প্রভাব খাটিয়ে আমার মেয়ে ঐশ্বরিয়া জুনিয়র ইলা’র নাম পরিবর্তন করে ফরিদপুর সদর পৌরসভা থেকে একটি ভুয়া জন্ম সনদ তৈরি করে। পৌরসভার ওই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ২০০৮২৯২৬০০৮১৪৮০২২। ওই ভুয়া জন্ম সনদে জন্ম তারিখ ঠিক রেখে “ঐশ্বরিয়া জুনিয়র ইলা’র নাম পরিবর্তন করে “ঐশ্বিকা চৌধুরী” বাবার নাম মো. ইলিয়াস সরদারের জায়গায় জনৈক “অমিত চৌধুরী” লেখায়। ভুয়া জন্ম নিবন্ধনকারী ও সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও সরকারের জন প্রশাসন মন্ত্রনালয়কে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান ইলিয়াস।

  ইলিয়াস সরদার সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, তার স্ত্রী ডলি ওরফে দোলা ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে বর্তমানে শিক্ষকতা করছে এবং একমাত্র মেয়ে ইলা ওই স্কুলের প্রভাতী শাখায় ৯ম শ্রেনিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করছে। ফরিদপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার আলীমুজ্জামানের সহায়তায় স্কুলের সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এসকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ইলিয়াস সরদার।  স্ত্রী ও একমাত্র কন্যাকে ফিরে পেতে এবং ঔরসজাত একমাত্র কন্যার সঠিক পিতৃ পরিচয় পেতে সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদের আইনগত সহায়তার পাশাপাশি দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন হতভাগ্য পিতা ইলিয়াস সরদার।  

অভিযোগের ব্যাপারে ডলি ওরফে দোলা ফোনে জানান, বিয়ের পর থেকে আমাকে প্রচন্ড রকমের মারধর শুরু করে। যা এলাকার লোকজন গেটের সামনে দাড়িয়ে প্রত্যক্ষ করতো। রাতে বাইরে থেকে সকাল বেলা বাসায় ফিরে ঘুমাতো। সে একজন খারাপ চরিত্রের নেশায় আসক্ত লোক। আমাদের মা ও মেয়েকে একসাথে মারধর করতো। তার মারধরের কারণে ওর পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে ওর মা আমাকে জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যেতে বলেছে বহু বার। শেষ দিনে মারধরের পরে আমার মেয়ে আমাকে জীবন নিয়ে পালিয়ে যেতে বললে আমি ওর কাছ থেকে পালিয়ে আসি। আমি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দেই। 

ওর নামটা মেয়ের ভাল লাগেনা তাকে জানালে ইলিয়াস মেয়েকে বলেছে যে, অমিত চৌধুরী অথবা অভিষেক চৌধুরী নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করতে। পরে ও নিজের নাম এভিডেভিট করে ইলিয়াসের পরিবর্তে মেয়েকে দেয়া নাম পরিবর্তন করে নেবে। ওর দেয়া নাম ব্যবহার করে রেজিষ্টেশন সম্পন্নর পরে পাঁচ বছর পরে আমাদের ট্রপে ফেলছে বলে জানান।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন