ঢাকা রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডাবের চাহিদা, দামে আগুন

ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডাবের চাহিদা, দামে আগুন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

জাহিদ হোসেন। বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চরকালেখা গ্ৰামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। স্ত্রীর প্রস্তুতিজনিত কারণে গত চার দিন ধরে বরিশাল শেরে বাংলা মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) আছেন। স্ত্রীর রক্ত শূন্যতা, তাই তার বরিশালের পরিচিত এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়র থেকে ডোনার ম্যানেজ করে রক্ত যোগাড় করেছেন। ওই ডোনারের জন্য শেবাচিমের মাঝের গেঁটের সামনে ডাব কিনতে আসলে সোমবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় কথা হয় জাহিদ হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, অনেক জোরাজুরি করে ডাব বিক্রেতার কাছ থেকে দুটি ডাব ১শ ৬০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। একেকটি ডাব ৮০ টাকা করে নিয়েছে। তিন চার জন ডাব বিক্রেতার কাছে ঘুরে একজনের কাছ থেকে নিয়েছেন তিনি। সবার কাছে একই দাম। ডাবের সাইজ ভেদে ১০/২০ টাকা কম বেশি, কিন্তু হাসপাতাল চত্বরে ৭০/৮০/১০০ টাকার নিচে কোনো ডাব নেই। তাই রোগীর স্বজনরা অনেকটা বাধ্য হয়েই বেশি দাম কিনে নিচ্ছে ডাব।
 
কথা হয় হাসপাতালের সামনে ডাব বিক্রেতা সবুর হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খালি ডাবের দাম বাড়ছে এইডা দেহেন, বাজারে কোন জিনিসটার দাম বাড়ে নাই। আগে ডাব কেনা আছেলে কোম দামে, বেঁচছিও কোম দামে। এহন কেনা পড়ে বেশি দামে, বেঁচাও লাগে বেশি দামে। এতো আমরা বানাই না, কিইন্না আনি। আগে গাছসহ ঠিয়া কিনতাম, এহন গাছ মালিকও গুইন্না গুইন্না বেঁচে। এহন একটা ডাব খরচাসহ ৪০/৫০ টাহার ওপরে কেনা পড়ে। তাইলে বেচমু কত?’

হাসপাতালের সামনের অপর এক ডাব বিক্রেতা জামাল ফকির বলেন, ‘বাবুগঞ্জ, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জায়গা দিয়া ডাব পাইকারি আনি। গাড়ি ভাড়া, লেবার খরচাসহ একটা ডাব পঞ্চাশের ওপরে পরে যায়। হেই ডাব ৭০/৮০ টাহায় না বেঁচলে খামু কি। হারাদিনে ৩ হইতে ৫ ছড়া ডাব বেঁচি, এহেক ছড়ায় ১৫/১৭টা ডাব থাহে, ডাব প্রতি ২০/২২ টাহা হয়।’ তবে আসন্ন রমজানে ডাব আরও চড়া দামে বিক্রি হবে বলে জানান এ ডাব বিক্রেতা।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। মহামারি করোনাভাইরাস তার ওপর অসময়ে ভ্যাপসা গরম। একসঙ্গে সবকিছুর প্রভাব যেন ডাবের দামেই ভর করেছে। বাজারে বিভিন্ন রকমের মৌসুমী ফলের মজুদ থাকলেও বেড়েছে ডাব, তরমুজ ও অন্যান্য ফলমূলের দাম। বর্তমানে ডাবের দাম সাধারণ মানুষদের নাগালের বাহিরে। এই সময়ে একটি ডাবের পানিতে চুমুক দিতে গেলেই গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে ৮০ টাকা। নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান সদর রোড বিবির পুকুর পাড়ে গিয়েও দেখা যায় একই অবস্থা। সেখানেও দু্ই তিন জন ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা ৮০/৯০ টাকা করে ডাব বিক্রি করছেন। নগরীর নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড, রুপাতলী বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট ও আদালত চত্বরের সামনে ১শ টাকা করে প্রতি পিস ডাব বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই একটু ন্যাচারাল পানি পানের আশায়ও বেশি দাম দিয়েই ডাব কিনে খাচ্ছে। অনেকে আবার ডাব খেতে খেতে ক্ষোভের স্বরে বলছেন, এদের বিরুদ্ধেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর দরকার। ৪০/৪৫ টাকার ডাব ৯০/১০০ টাকা রাখা হচ্ছে কি কারণে?

নগরীর বিবির পুকুর পাড়ে ডাব খেতে এসে সাউথ ইস্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এইতো কিছুদিন পূর্বেও ৫০ টাকা করে ডাব খেয়েছি। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৮০/১০০ টাকায় খেতে হচ্ছে। আসলে আমাদের দেশে কোনো কিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। যে যেখান থেকে পারছে ইচ্ছে মত সবকিছুর দাম বাড়চ্ছে। আর এর ভুক্তোভোগী হচ্ছে শুধু সাধারণ জনগণ।’
 
বেশি দামে ডাব না খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহ্ শোয়াইব মিয়া জানান, ডাবের দাম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দাম কম বেশি হয়। এখানে আমাদের কিছু করনীয় নেই। লোকজন ৮০/১০০ টাকা জেনেও যখন খাচ্ছে, তখন বিক্রেতারা দাম বেশি নিবে এটাই স্বাভাবিক। লোকজন ৮০/১০০ টাকায় খাওয়া বন্ধ করুক দাম এমনি কমে যাবে।

 


এসএম
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন