ঢাকা রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
থানা ও আদালতে চার অভিযোগ-মামলা

এক মোজাম্মেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গোটা মোহাম্মদপুরবাসী

এক মোজাম্মেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ গোটা মোহাম্মদপুরবাসী
ছবি: প্রতীকি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল নগরীর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার মোহাম্মদপুরের নুরু মোহাম্মদের ছেলে মোজাম্মেল হাওলাদারের অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। তার চাঁদাবাজি, অন্যের জমি দখল, মাদক কারবারিসহ একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। এর থেকে রক্ষা পেতে মোজাম্মেল ও তার লোকেদের বিরুদ্ধে একে একে চারটি অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরী এবং মামলা করেও নিস্তার পাচ্ছে না কেউ। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, অতিসম্প্রতি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানায় মো. সালাউদ্দিন মামুন নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মোজাম্মেলসহ তার লোকেদের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাদাবির অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘কাউনিয়া চর বদনা মৌজার ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে ভোগদখল করে আসছেন অভিযোগকারী। ওই জমি জবর দখলের চেষ্টার পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে অভিযুক্ত মোজাম্মেল এবং তার লোকেরা। চাঁদা না পেলে জমিতে নির্মিত ডেইরী ফার্ম, ঘেরে চাষ করা মাছ এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিষ দিয়ে নষ্ট করার হুমকি দেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে সালাউদ্দিন মামুনের জমির ওপর থাকা ঘর দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে সালাউদ্দিন মামুনকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া মোজাম্মেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে গত ২৮ মার্চ মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী মোসা. পাখি বেগম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরীতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘তিনি ওই এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা।

গত ২৮ মার্চ রাত ৩টার দিকে মোজাম্মেল হাওলাদার ওই নারীর ঘরে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে বসতঘরে কুপিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে। এসময় ওই নারীর ঘরে থাকা ফ্রিজের পেছনের অংশ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ দুটি ঘটনা প্রসঙ্গে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মহিলা কাউন্সিলর আলমতাজ বেগম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। মামুনসহ বেশ কয়েকজন ফোন করে আমাকে ঘটনাটি জানিয়েছে। মোজাম্মেল নামের যে লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সে আমার পূর্ব পরিচিত। তবে ঘটনাটি আমি স্বচোখে দেখিনি। তাই ঘটনাটি কতটা সত্যি এবং কতটা মিথ্যা তা নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত হোসেন রনি বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি বরিশালে ছিলাম না। তবে পরে জেনেছি। মোহাম্মদপুরে ডেইরী ফার্মে নাকি হামলা-ভাংচুর এবং এক নারীর ঘরে হামলা হয়েছে। এই ঘটনায় ফার্মের মালিক এবং ঘারের ভাড়াটিয়া নারী থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তাছাড়া মোজাম্মেলসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা পূর্বে থেকেই বিতর্কিত বলে জানান ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘শুধু সালাউদ্দিন মামুন এবং পাখি বেগম নন। মোজাম্মেল ও তার লোকেদের অত্যাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্বীকার হয়েছেন আরও অনেকে। এ নিয়ে দুটি মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মো. আলমগীর ঢালী নামের একজন ব্যক্তি মোজাম্মেলকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। বাদী আলমগীর ঢালী একই এলাকার মো. নুরু ঢালীর ছেলে এবং পেশায় তিনি একজন ভাঙারী ব্যবসায়ী।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘মোজাম্মেল বিভিন্নসময় লোকজন নিয়ে ভাঙারী দোকানে এসে বাদীর কাছে চাঁদা দাবি করে। এরপর গত বছরের ২৮ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে মোজাম্মেল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাদীর বাড়ির সামনে এসে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলমগীর ঢালীকে মারধরসহ তার বসতঘরে হামলা ভাঙচুর শুরু করে মোজাম্মেল বাহিনী। এতে বাধা দিতে গেলে আলমগীরের স্ত্রীর শ্লীলতাহানী করে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৮ জুন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মৃত আয়জদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে জমি দখল, হামলা, ভাঙচুর এবং মারপিটের অভিযোগে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার চার নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মোজাম্মেল। ওই মামলায় সুমন হাওলাদার নামের একজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

এতোসব অভিযোগ আর মামলার পরেও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে নানা অপরাধের অনুঘটক মো. মোজাম্মেল হাওলাদার। আইন-কৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিস্কৃয়তার সুযোগে একেরপর এক অপরাধ ঘটিয়েই চলছেন তিনি। তাই তার লাগাম টেনে দিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ছগির হোসেন বলেন, ‘ঘর কোপানোর ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী হয়েছে। ওই ডায়রী তদন্তের অনুমতি চেয়ে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তবে চাঁদাদাবির ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন