শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় বন্দরের ৩ শুল্ক প্রহরী বরখাস্ত
বরিশাল নদী বন্দরে প্রবেশ টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চার শিক্ষার্থীকে মারধর ও কানধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় নদী বন্দরের তিন শুল্ক প্রহরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া বরিশাল নদী বন্দরের তিন শুল্ক প্রহরী হলেন- মো. মিজানুর রহমান, মো. কামাল হোসেন ও মো. জাকির হোসেন।
তবে ঘটনার রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে কানধরে ওঠবস করা টিকিট চেকার মাইনুলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মাইনুল নিজেই সবার সম্মুখে স্বীকার করেছিল সে বন্দরের গেট থেকে দুই শিক্ষার্থীকে ধরে দোতলায় নিয়ে আসে।
আর আহত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দোতলায় নিয়ে মারধর, কারধরে উঠবসের পাশাপাশি পা ধরে মাফ চাইতেও বাধ্য করা হয়।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালের যুগ্ম পরিচালক ও বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার (২৭ মার্চ) রাতে তিন শুল্ক প্রহরীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার একটি আদেশ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি ওই তিন শুল্ক প্রহরীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ববির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নদী বন্দরে প্রবেশ করা নিয়ে ঝগড়া ও মারধরের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিন শুল্ক প্রহরীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
২৫ মার্চ রাতে বরিশাল নদী বন্দরে প্রবেশ টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে কান ধরে ওঠবস ও মারধরের অভিযোগ ওঠে নদী বন্দরের ২ নম্বর কাউন্টারে কর্মরত শুল্ক প্রহরীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে ববির শিক্ষার্থীরা বরিশাল নদী বন্দরে বিক্ষোভ ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। তারা শিক্ষার্থীদের মারধর ও কানধরে ওঠবস করানোর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, রাত ৮টার দিকে সহপাঠী রাকিব হোসেনকে নদী বন্দরে পৌঁছে দিতে বন্দরে যান ববির ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান, মো. আশিকুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ইমরান হোসেন। ওই চারজনের মধ্যে একজন নদী বন্দরে প্রবেশের জন্য টিকিট কাটেন। এ নিয়ে চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয় শুল্ক প্রহরীদের সঙ্গে। পরে শুল্ক প্রহরীরা তাদের বন্দর ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে একটি কক্ষে আটকে মারধর ও কানধরে ওঠবস করায়।
এমইউআর