ঢাকা রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

মুলাদীতে শিক্ষকের ওপর মেম্বারের লোকেদের হামলা

মুলাদীতে শিক্ষকের ওপর মেম্বারের লোকেদের হামলা
ছবি: প্রতীকি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের মুলাদীতে শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এসময় ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন সভাপতি ও তার লোকেরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে মুলাদী উপজেলার বাহাদুরপুর ফজলুর রহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হানিফ সরদার মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

এ ঘটনায় হামলার শিকার সিদ্দিকুর রহমান নামের ওই সহকারী শিক্ষক মুলাদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান।

হামলার শিকার বাহাদুরপুর ফজলুর রহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, ‘তাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষক এবং চতুর্থ শ্রেণির তিনটি পদে জনবল নিয়োগ করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হানিফ সরদার এবং পার্শ্ববর্তী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর বিএনপি নেতা মো. জাকির হোসেন জমাদ্দার নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। ওই পদে নিজেদের লোককে সদস্য নির্বাচিত করে নিয়োগ বাণিজ্য করার পরিকল্পনা তাদের। মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিতে আসলে এ নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য হানিফ সরদারের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন জমাদ্দার এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হানিফ সরদার নির্দেশে সভাপতির ছেলে রিয়াজ সরদার, জাকির জমাদ্দারের ভাই বশির জমাদ্দার এবং বদিউজ্জামান বদরুল এবং আলমগীরসহ কয়েকজন মিলে শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের ওপর হামলা করে। এসময় তারা ওই শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, তিনি মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার নিজের ব্যবসাও রয়েছে। ঘটনার সময় সাথে থাকা ব্যবসার টাকা হামলাকারীরা ছিনতাই করে বলে দাবি তার। এই ঘটনায় তিনি থানায় মামলার জন্য এজাহার দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষক।

অভিযোগ অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য হানিফ সরদার বলেন, ‘সিদ্দিক মাস্টারের ওপর হামলা বা লাঞ্চিতর কোন ঘটনা ঘটেনি। পূর্বে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ফলাফল তিনি মানেন না। তাই নতুন করে নির্বাচন করতে নজরুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষকের কাছ থেকে জোর করে ফরমে স্বাক্ষর নেয়। বিষয়টি আমি জানতে পেরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্কুলে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলি এবং কোন প্রকার অনিয়ম হবে না বলে জানাই।

তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনা নিয়ে আমার ছেলে রিয়াজ এবং রাসলসহ এলাকার কিছু লোকেদের সাথে সিদ্দিক মাস্টারের একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। সেখানে কোন মারধর বা বড় ধরনের কিছু ঘটেনি।

এ প্রসঙ্গে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষক থানায় এসে অভিযোগ করেছেন তার ওপর হামলা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে নাকি এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন