চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল টিসিবি পণ্য
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ১২টি গাড়িতে করে পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। ফলে একেকটি গাড়ির সামনে উপকারভোগীদের দীর্ঘ লাইন। আর দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পণ্য ক্রয় করে নিচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ। এমন দৃশ্য নগরীর প্রতিটি টিসিবির পণ্য বিক্রয়কারী ট্রাকের সামনে।
এদিকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) থাকলেই টিসিবির পণ্য পাচ্ছে উপভোগকারীরা।
রোববার (২০ মার্চ) থেকে সিটির ১২টি স্পটে পণ্য বিক্রয় শুরু করেছে টিসিবি। এছাড়া জেলার দশটি উপজেলায় পূর্বের বিতরণকৃত ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে এ পণ্য পাচ্ছে উপকারভোগীরা। তবে এ পণ্য সেবা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলছেন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, বিশাল এই নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১২টি স্পটে টিসিবি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে তাদের পণ্য সেবা দিচ্ছে। ফলে নগরীতে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছেন না।
১৪নং ওয়ার্ডের রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা দিনমজুর বাদশা মিয়া জানান, শুনছি রোববার হতে টিসিবি খাদ্য সামগ্রী বিক্রি শুরু করছে। অথচ আমাদের এলাকায় এখনও ট্রাক আসেনি। আমরা বাজার থেকে বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে কিনতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। টিসিবি পণ্য বিক্রি করছে শুনে খুশি হলেও এখনও আমাদের ওয়ার্ডে তা পৌঁছায়নি।
নগরীতে টিসিবি পণ্য বিক্রয় হচ্ছে এমন বেশ কয়েকটি স্থানে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রখর রোদ উপেক্ষা করে নিম্নআয়ের মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক লোকজনকেও মোটরসাইকেল থামিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিতে দেখা গেছে। অনেককে আবার দীর্ঘলাইন দেখে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে কোনো কোনো পরিবারের ২-৩ জন সদস্য এসেও পণ্য নিচ্ছে।
১২নং ওয়ার্ড চরের বাড়ির মসজিদের সামনে টিসিবির পণ্য নিতে আসা এক দোকান কর্মচারী সাদ্দাম অভিযোগ করে বলেন, দোকানের কাজ রেখে সকাল ১০টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দেড় ঘণ্টা হয়েছে এখন পর্যন্ত পণ্য পাইনি। এদিকে দোকান থেকে মালিক বারবার ফোন করে ডাকছে। আর কিছু সময় থাকলে আমার চাকরি থাকবে না। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে অবস্থা আমার সাধ্য থাকলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতাম না।
কথা হয় নগরীর এক টিসিবি ডিলার মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র ১২টি স্পটে পণ্য বিক্রয় হচ্ছে। প্রতিদিন রোটেশন অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেয়া হবে। তারপরও এতবড় নগরীতে ১২টি গাড়িতে পণ্য দেওয়া হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। তাছাড়া পণ্য রেডি করতে কিছুটা সময় লাগে তাই দিতে একটু দেরি হয়।
এই ডিলার আরও বলেন, প্রতিটি গাড়িতে আমাদের ৩ শ’ পরিবারের জন্য খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৫ টাকা দরে ২ কেজি করে চিনি, ৬৫ টাকা দরে ২ কেজি মশুর ডাল এবং ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এর সঙ্গে আরও দুই কেজি করে ছোলা দেওয়া হবে। আর কোনো পরিবারের একাধিক সদস্য যদি পণ্য নিতে আসে তাহলে আমাদের কি করার আছে। কারা একই পরিবারের সদস্য বোঝার উপায় নেই।
এদিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করতে দেখা গেছে।
সিটির বাইরের উপজেলাগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের তদারকি করছেন।
এ বিষয়ে টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী (অফিস প্রধান) মো. আল- আমীন হাওলাদার বলেন, বরিশালের মোট ৪২ জন ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ও প্রতিটি উপজেলায় একজন ডিলার ভোক্তাদের হাতে পণ্য তুলে দিচ্ছে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই, রোটেশন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সব ওয়ার্ডেই ট্রাক পৌঁছে যাবে।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, ভর্তুকি মূল্যে প্রথম পর্যায়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০ হাজার এবং জেলার ১০ উপজেলা ও পৌরসভায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২১ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে এ পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এর আগে রোববার (২০ মার্চ) সকালে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপকারভোগীদের মাঝে টিসিবির এ পণ্য সামগ্রী বিক্রয় কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম।
এসএম