বাবুগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভুট্টার আবাদ বেশি

বরিশালের বাবুগঞ্জে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় আশাবাদী কৃষকরা। অনুকুল আবহাওয়া, পরিমিত বৃষ্টি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় এবার ভুট্টা চাষ বেড়েছে।
উপজেলার প্রধান ফসল ধান হলেও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন-দিন বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের প্রবণতা। এর আগের বছরগুলোতে ইরি-বোরো ধানের মৌসুমে চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ধান গমের পাশাপাশি ভুট্টা চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। এছাড়া গবাদিপশুর খাদ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ভুট্টা চাষে মনোযোগী হয়েছেন খামারিরা। এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। ভুট্টার বাম্পার ফলনের আশাবাদী কৃষকরা।
কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন পাবে বলে উপজেলা কৃষি অফিস ও এলাকার ভুট্টা চাষীরা ধারণা করছেন।
এবার ভুট্টা চাষে এলাকার কৃষকরা বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। ভুট্টা চাষে খরচ কম, ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের এ ফসল চাষের আগ্রহ বেশি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুট্টা চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৩০০হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে ৩৩০ হেক্টর জমিতে। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছিল ৩১০ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবছর ২০ হেক্টর জমিতে বেশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে।
তারা আরও জানায়, প্রথমে ২০ কেজি পটাস, ২৫ কেজি ফসফেট, ১০ কেজি জিপ সার, ১ কেজি বরন, ১ কেজি দানাদার ও ১ কেজি সালফার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে জমি তৈরি করে বিঘাপ্রতি ৩ কেজি ভুট্টার বীজ বোপন করতে হয়। ১ মাস পর বিঘাপ্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি ড্যাপ ও ২ কেজি থিওভিট ছিটিয়ে ক্ষেতে পানি সেচ দিতে হয়। বীজ বপনের ৯০ দিনের মধ্য ভুট্টা কাটা-মাড়াই করে থাকেন কৃষকরা।
ভুট্টার বীজ বপন থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১০ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়।
উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ বলেন, নদী ভাঙ্গনের ফলে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের জমিজমা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। কয়েক বছর পর চর জেগে ওঠার ফলে ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। এলাকার যে সব জমিতে পূর্বে বোরোচাষ করা হত,সে সব জমির অনেকগুলোতেই এবার ভুট্টা চাষ করেছি। ভুট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য ভুট্টা চাষে এবার মনোযোগ দিয়েছি।
গতবার আমি ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছিলাম, দামও ভালো পাইছি। তাই এ বছর আমি ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। আশা করছি ভাল ফলন পাবো।
উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের মোঃ বাবলু বলেন আলুর মধ্যে ভুট্টা চাষ করা হয়। আলু উত্তোলনের পর ভুট্টার পরিচর্যা করা হয়। আলুতে সার প্রয়োগের ফলে ভুট্টআ চাষে সার কম লাগে। কম সেচ দিলেও চলে। আশা করি ফলনও ভাল হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হওয়া যাবে।
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুরুজ সিকদার ও রাইসুল ইসলাম ওমর বলেন, গত বছরের তুলনায় বাবুগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। কৃষকরা যাতে স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারে এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আমরা সরকারিভাবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ভুট্টা বীজ,ড্যাব সার এবং এমপিও সার বিতরণ করেছি । সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি। যাতে করে কৃষকরা সহজভাবে কৃষি উপকরণ পায়। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেলের জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এমইউআর