বরিশালের দুই ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বরিশালের দুই ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন জনৈক ব্যক্তি। গত রোববার (৭ নভেম্বর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত অভিযোগ দেন মো. আমিনুল হক। তিনি নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড ফকির বাড়ি রোডের বাসিন্দা মো. আমজেদ হোসেনের পুত্র।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বরিশাল মহানগরীতে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকির হোসেন (বিপি নং-৮৪১১১৪৩৪৭৪) এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট আবু বক্কর সিদ্দিক (বিপি নং-৮৮১৫১৭৩৪২০) যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চালক-মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। তারা সহযোগী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনকালে চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের দুর্ব্যবহার এবং চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট ছোট বড় সবধরনের যানবাহন চালক-মালিকরা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, করোনা মহামারির প্রভাবে গোটা দেশের মত বরিশালবাসীও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষ করে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চালক-মালিকরা এই মহামারির প্রত্যক্ষ শিকার। তারা অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধ করে কোনক্রমে পরিবার পরিজন নিয়ে টিকে আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিওসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রস্ত। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েই তারা যানবাহন ক্রয় করেছেন জীবিকা নির্বাহের কাজে। কিন্তু উল্লিখিত দুই সার্জেন্ট তাদের বেপরোয়া কর্মকা-ের কারণে সড়কে তাদের কাছে আতংকে পরিণত হয়েছেন।
এ অবস্থায় গরীব ও খেটে খাওয়া এসব যান চালক-মালিকরা করোনার কারণে সৃষ্ট আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মানবিক সহযোগিতা চেয়েছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকির হোসেন ও আবু বক্কর সিদ্দিক’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক সার্জেন্ট জাকির হোসেন বলেন, আমি মাত্র ১১ মাস হয়েছে বরিশালের কর্মস্থলে যোগদান করেছি। যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করা হয়েছে তা শুনে আমি হতবাক কারণ এগুলো সত্য নয়।
ট্রাফিক সার্জেন্ট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ব্যক্তিগত নয় আমরা কেবল সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। সড়কে কর্তব্য পালনকালে কোন ক্ষেত্রে হয়ত কারো স্বার্থে আঘাত লেগেছে। তারাই এসব বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনার স্যারের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার বিষয়টি শুনেছেন। এর ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তা মেনে নেয়ার কথা জানান ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এমবি