সরকারি জাহাজ-ভায়া লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা

ডিজেলের দাম বাড়ায় লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে বরিশাল থেকে সব নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকেল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা বরিশাল নদীবন্দরে এসে জড়ো হন।
লঞ্চ না ছাড়ার খবরে কিছু যাত্রী ফিরে গেলেও দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) জাহাজ ও ভায়া লঞ্চের জন্য ঘাটেই অপেক্ষা করতে থাকেন। সন্ধ্যার পরে বিআইডব্লিউটিসির জাহাজ এমভি বাঙালি ঘাটে আসার পর কিছু যাত্রী তাতে চেপে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এছাড়া অন্য যাত্রীরা ঝালকাঠি থেকে ঢাকাগামী এমভি ফারহান ও পিরোজপুরের তুষখালী থেকে ঢাকাগামী (ভায়া) এমভি পুবালী-৭ নামে দুটি লঞ্চে চেপে যাত্রা করেন।
স্বাভাবিক দিনের থেকে এসব লঞ্চে যাত্রীদের উপস্থিতি বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন পুবালী লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন।
এদিকে ঝালকাঠিতে লঞ্চ নোঙর করে রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কোম্পানির লঞ্চটি আজ যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফারহান লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটু।
তিনি জানান, তাদের লঞ্চটিও ঢাকা গিয়ে ধর্মঘট পালন করবে। এদিকে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জনিয়েছেন, যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া বাড়ানো হবে অনৈতিক কাজ।আর লঞ্চ মালিকদের দাবি ডিজেলের দাম বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
রাসেল হোসেন নামে এক যাত্রী জানান, ভাড়া বাড়ানোর জন্য যাত্রীদের জিম্মি করে হঠাৎ লঞ্চ বন্ধ করা ঠিক হয়নি। এ সিদ্ধান্ত বিকেল তিনটায় না নিয়ে আরও আগে নিতে পারতেন লঞ্চ মালিকরা। তা হলে আমরা ঘাটে এসে ভোগান্তিতে পড়তাম না।
অ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের মালিক নিজাম উদ্দিন মৃধা জানান, লিটার প্রতি ১৫ টাকা ডিজেলের দাম বাড়ায় বরিশাল-ঢাকা রুটের ট্রিপ প্রতি ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় যাত্রী প্রতি ভাড়া বাড়ানো না হলে লঞ্চ চলানো সম্ভব নয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়া নিয়ে এক দিন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। তবে সেটা আর সম্ভব নয়।
এসএম