বিএম কলেজে প্রফেসর হানিফ ‘স্মরণ সম্মিলন’ অনুষ্ঠিত

‘শিক্ষার বাতিঘর, শিক্ষকের শিক্ষক’প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ 'স্মরণ সম্মিলন' অনুষ্ঠিত হয়েছে । শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বিকালে বিএম কলেজ অর্থনীতি বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই স্মরণ সম্মিলন' এর আয়োজন করা হয় ।
বিএম কলেজের শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর পরিমল চন্দ্র কর্মকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড.এ এস কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো.আল-আমিন সরোয়ার।
সভায় প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেছি শিক্ষাক্ষেত্রে যে উন্নয়ন তার সাথে অ্যালামোনাইদের অবদান থাকে বেশি। বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগ অ্যালামোনাই অ্যাসোসিয়েশন খুব অল্প সময়ে খুব ভালো কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, স্যারের প্রতি ভালোবাসা আছে বলেই চারঘন্টা ধরে আপনারা স্মরণসভায় সময় দিয়েছেন। এই ভালোবাসা হানিফ স্যার অর্জন করেছেন। কলেজের সব বিভাগকে অ্যালামোনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে । বিএম কলেজ অ্যালামোনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হবে । অধ্যক্ষ হানিফ এর নামে বিএম কলেজ ক্যাম্পসে স্মৃতি স্থাপনা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এছাড়াও বক্তব্যে রাখেন, প্রফেসর ড.এ এস কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ, আলআমিন সরোয়ার, ইউসুফ আলী মল্লিক, প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস, মুর্তজা আলী কবির, প্রফেসর আকতারুজ্জামান, সোহেল আহমেদ এবং অ্যালামোনাই অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, প্রফেসর সাইদুন্নেছা লাইলা, আবদুল আউয়াল ফরিদ, অধ্যক্ষ মোহসিন উল ইসলাম হাবুল,রাশিদা বেগম, শাহীদা নাইমুজ্জামান, কাজী মিজানুর রহমান, কেবিএস আহমেদ কবির, লস্কর নূরুল হক,শাহীনা আজমীন প্রমুখ ।
বক্তরা বলেন, প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ স্যার ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। বিএম কলেজের গন্ডি পেরিয়ে তিনি সারা দেশে পরিচিত হয়ে উঠেন। চলমান শতাব্দীতে বরিশালের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ ও সংস্কারে হানিফ স্যার রেখেছেন অসামান্য অবদান। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস হানিফ স্যারের নাম বাদ দিয়ে হবে না। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। বিএম কলেজের ইট,বালু, সুরকির সাথে হানিফ স্যারের সম্পর্ক রয়েছে। তাই তার নামে এমন কোন কিছু স্থাপন করা হোক, যেন ক্যাম্পাসে ঢুকেই তা সবার চোখে পড়ে।আগামী প্রজন্ম যেন জানতে পারে হানিফ স্যার সম্পর্কে। তিনি কখনও কোথাও বিবেক বন্ধক রাখতেন না। সত্য কথা বলতে হানিফ স্যার দ্বিধা করতেন না। হানিফ স্যারকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আমাদের প্রয়োজনেই।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মার্চ বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ মৃত্যুবরন করছেন । ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ব্রজমোহন কলেজ অর্থনীতি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
এইচকেআর