আ’লীগের ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে কাদা ছোড়াছুড়ি

দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বরিশাল বিএনপি। নির্বাচনে না গেলেও গোপনে সরকার দলীয় প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষাবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আর এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং শোকজের রাজনীতি শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর হওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রাঢ়ীর বিরুদ্ধে। এমনকি একই প্রার্থীকে ইতোপূর্বে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ ওঠে জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধেই। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ইউপি বিএনপি’র আহ্বায়ককে শোকজ করে উপজেলা বিএনপি।
আর এ নিয়েই শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি। অভিযুক্ত আব্দুস সালাম রাঢ়ী জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন এর ঘনিষ্টজন হওয়ায় উপজেলা বিএনপি’র সভাপতিকেই পাল্টা শোকজ করা হয়। মঙ্গলবার জেলা বিএনপি’র দলীয় প্যাডে অ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চুকে শোকজ করা হয়। দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত নোটিশে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে বাচ্চুকে। এমন একটি নোটিশ এসেছে গণমাধ্যম কার্যালয়ে। তবে শোকজ জবাবের মেয়াদ উত্তিণের আগেই জেলা বিএনপি’র কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভেদ, অনৈক্য এবং বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কাজে লিপ্ত রয়েছে। এসকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম মাসুম, আব্দুর রশিদ ফকির, মামুনুর রশিদ ও হারুন মোল্লা।
এর বিপরিতে আপনি (এনায়েত হোসেন বাচ্চু) ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রাঢ়ীর বিরুদ্ধে ২৪ ঘন্টার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। যাতে দলের মধ্যে বিভাজনসহ সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নোটিশে বলা হয়, উল্লেখিত ঘটনা জেলা বিএনপি’র নজরে আসলে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ৩০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় আপনি (এনায়েত হোসেন বাচ্চু) সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে এনায়েত হোসেন বাচ্চু দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত এমনকি নেতৃবৃন্দ ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে সাঁড়া দেননি।
এছাড়া ইতোপূর্বে রায়পাশা-কড়াপুর এবং চরকাউয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি গঠন কার্যক্রমে দলীয় কোন্দলের উৎসাহ যোগানোর অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয় নোটিশে। এসব কারণে ৩০ অক্টোবর দলীয় কার্যালয়ের সভায় কেন উপস্থিত হননি সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে এনায়েত হোসেন বাচ্চুকে।
অপরদিকে, গত ২৫ অক্টোবর চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রাঢ়ীকে শোকজ করেন সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু।
শোকজের বিষয়টি নিয়ে তখন তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘আব্দুস ছালাম রাঢ়ী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করছেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক। বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে গত ১৯ বছর চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘এবার তিনি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, গত ১৮ অক্টোবর চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর ক্লাবে আওয়মী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব নেন।’
তিনি আরও জানান, ‘গত ২১ অক্টোবর ইউনিয়নের বুখাইনগর মাদরাসা মাঠে আওয়মী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভাতেও অংশ নেন ছালাম রাঢ়ী। সভায় প্রকাশ্যে তাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাাযোগ করা হয়েছে। তাদের পরামর্শেই আব্দুস সালাম রাঢ়ীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে, ‘এনায়েত হোসেন বাচ্চুকে শোকজের বিষয়টি স্বীকার করে বরিশাাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে গত ১ নভেম্বর তাকে শোকজ করা হয়েছে। তবে এটার প্রেস বিজ্ঞপ্তি আমরা পত্রিকা অফিসে দেইনি। পত্রিকা অফিসে শোকজ নোটিশ পৌঁছালো সেটা বলতে পারব না। তবে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশে দ্বিমত করেন এই নেতা।
এইচকেআর