২শ বছরের পুরানো মহাশ্মশানে দিপাবলী উৎসব আজ
উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ বরিশাল মহাশ্মশানে অনুষ্ঠিত হবে দিপাবলী উৎসব হবে। প্রায় দুইশত বছরের অধিক সময় ধরে এখানে চলে আসছে এ উৎসব। এবারেও উৎসবকে ঘিরে সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে শ্মশান রক্ষা কমিটি। আজ ৩ নভেম্বর বুধবার বিকাল ৫টায় ভূত চতুর্দশী তিথিতে শুরু হওয়া দিপাবলী উৎসব শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তবে উৎসবের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে বুধবার রাতেই।
এদিকে, দিপাবলী উৎসবকে ঘিরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই মহাশ্মশান এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি শ্মশানে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে এবারই প্রথম ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে মেট্রোপলিটন পুলিশ। আর তাই মঙ্গলবার সকালে কাউনিয়ার আদী মহাশ্মশান পরিদর্শন করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার মো. আলী আশরাফ ভ‚ইয়া। কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের দিপাবলী উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী নগর পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
জানা গেছে, ‘ভূত চতুদর্শী তিথিতে হয়ে থাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের শ্মশান দিপাবলী উৎসব। এ উৎসবের দিনে মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে শ্মশান। এদিন মৃত স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ জালিয়ে প্রার্থনা করে থাকেন তাদের স্বজনরা। এজন্য গত কয়েক দিন ধরেই শ্মশানে মৃত স্বজনদের সমাধিতে রং করা, মাটির সমাধি সংস্কার এবং ধোয়া মোছায় ব্যস্ত সময় পার করেন অনেকে।
আলাপকালে বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমাল মালাকার বলেন, ‘২শ বছরের অধিক সময় ধরে চলা এই মহাশ্মশানে দিপাবলী উৎসব এবারও আড়ম্বর পরিবেশে পালিত হবে। এ স্মশানে প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত, পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত, ব্রিটিশ বিরোধী নেতা বিপ্লবী দেবেন ঘোষ, মনোরমা বসু মাসিমাসহ কাঁচা পাকা মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার সমাধি রয়েছে। যার মধ্যে ৯শ সমাধি রয়েছে, যাদের স্বজনরা থাকেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। সেইসব সমাধিগুলোকে হলুদ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাধিগুলোতে কমিটির উদ্যোগে দিপাবলী উৎসবের দিন সন্ধ্যায় মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে।
তমাল মালাকার বলেন, ‘এবারের আয়োজনে মহামারির বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শ্মশানের মূল ফটকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি মাস্ক পড়ে শ্মশানে প্রবেশির বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অপরদিকে, বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি গোপাল সাহা বলেন, ‘এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ দিপাবলী উৎসব হয়ে থাকে বরিশাল আদী মহাশ্মশানে। ভারত এবং নেপালসহ বহু দেশ থেকে প্রচুর মানুষ এখানে আসেন তাদের মৃত স্বজনদের স্মরণে। এজন্য নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি এরি মধ্যে শেষ হয়েছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএমপি কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সাথে নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আলোসহ অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে, ‘মঙ্গলবার সকালে মহাশ্মশানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে মহাশ্মশান পরিদর্শন করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার মো. আলী আশরাফ ভ‚ইয়া। এসময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বিদের দিপাবলী উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং শ্মশাণ রক্ষা কমিটিকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যে দিপাবলী উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শ্মশাণে পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা এবং সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষডুক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে দিপাবলী উৎসব সর্বক্ষডুক পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, ৫ একর ৯৬ শতাংশের এই বরিশাল আদী মহাশ্মশানে প্রতিবছর শ্মশান দিপাবলী উৎসবে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। কেউ উৎসব দেখতে আসেন, আর কেউ স্বজনদের সমাধিতে মোমবাতি এবং প্রদীপ প্রজ্বলন করেন। পাশাপাশি মৃত স্বজনদের প্রিয় খাদ্য দিয়ে স্মরণ এবং আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন।
এসএমএইচ