ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

যৌতুক মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় আদালতে স‍াক্ষী ও বাদীর ভাইয়ের ওপর হামলার পর মামলা

যৌতুক মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় আদালতে স‍াক্ষী ও বাদীর ভাইয়ের ওপর হামলার পর মামলা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

যৌতুক মামলায় স‍াক্ষ্য দেয়ায় বাদীর কন্যা, ভাই ও সাক্ষ্য দেয়া ভাগ্নের উপর হামলা চালানোর পর এবার মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেছেন আসামী। সোমবার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামী জাকির হোসেন পিন্টু। মামলায় স্ত্রীসহ তার দুই ভাই ও ভাগ্নেকেও আসামী করা হয়েছে। বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ মামলা এফআইআর হিসেবে রুজু করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামীরা হলন- মুলাদী উপজেলার দক্ষিণ কাজির চর এলাকার সেলিম আহম্মেদ সিকদারের কন্যা সালমা বেগম, তার ছোট দুই ভাই গোলাম মোর্শেদ রাব্বানী ও গোলাম মাসুম এবং ভাগ্নে জাহেদুল ইসলাম। মামলার বাদী হলেন-একই উপজেলার কাজীর চর কোলানীয়া গ্রামের মতলেব মোল্লার ছেলে জাকির হোসেন পিন্টু। সে স্ত্রী সালমা বেগমের করা বিচারাধীন যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলার প্রধান আসামী। গত বৃহস্পতিবার ওই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে পিন্টু মোল্লার হামলার শিকার হয়েছিলন সাক্ষী জাহিদুল ইসলাম, কন্যা সাবিহা আক্তার প্রিয়া, শ্যালক গোলাম মোর্শেদ রাব্বানী। কিন্তু ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ার পরেও মিথ্যা অভিযোগে করা মামলার আসামী হয়েছেন গোলাম মাসুম।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছর পূর্বে সালমা বেগমের সাথে সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের ২২ বছর পরেও স্বামী জাকির হোসেন পিন্টু যৌতুক দাবী করে আসছেন। যৌতুক এনে না দেয়ায় স্ত্রী সালমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে জাকির হোসেন পিন্টু। অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন সময় প্রথম স্ত্রী সালমাকে মারধর করেন। এছাড়াও যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেন। এক পর্যায়ে কন্যাকেসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় সালমা আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। মামলা বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মামলায় সাক্ষ্য দেন জাহিদুল ইসলাম। স‍াক্ষ্যতে আসামীর যৌতুক দাবীসহ নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরায় ক্ষিপ্ত হন আসামী। স‍াক্ষ্য গ্রহণ শেষে এজলাস থেকে বের হওয়ার পর স‍াক্ষ্য দেয়া ভাগ্নে জাহিদুল ইসলামের উপর চড়াও হন আসামী। ভাগ্নেকে রক্ষায় বাদীর ছোট ভাই এগিয়ে গেলে তার উপর হামলা করেন আসামীসহ তার স্বজনরা। এ সময় আসামী নিজ কন্যা সাবিহা আক্তার পিয়াকেও মারধর করেছেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও বাক-বিতণ্ডা হয়েছে। তখন আইনজীবী ও আদালতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত করেন।

কিন্তু এ ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়া ও যৌতুক দাবীতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলার বিচার থেকে রক্ষা পেতে নানা কূটকৌশলের অংশ হিসেবে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্যালক গোলাম মোর্শেদ রাব্বানী।


এমবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ