বরিশালে ১১ হাজার কিলোভোল্টের বিদ্যুতের খুঁটি গলার কাটা!

বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় ১১ হাজার কিলোভোল্টের বিদ্যুতের তার থাকায় ঝুুঁকিতে আছে বাসিন্দারা। ঝুঁকিপূর্ণ ওই তার সরিয়ে নেওয়ার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো)’র কর্মকর্তারা বলছেন খুব শীঘ্রই বিষয়টি দেখা হবে ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাওলানা ভাসানী সড়কে প্রায় শতাধীক পরিবারের বসবাস । ঐ সড়কের মা' ভিলার পিছনে ভেজা ইট-সিমেন্টর দেয়াল বিদ্যুৎ পরিবাহী হলেও প্রায় অর্ধশতাধিক ভবনের পাশ ও ছাদ ঘেঁষে ১১ হাজার কিলোভোল্টের বিদ্যুতের তার ও বিদ্যুতের খুঁটি। খুঁটিটি লতা পাতায় ঢেকে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একাধধিক ভবনের ছাদের ৩/৪ হাত উপরে থেকে গেছে এই লাইনটি। অনেক ভবনের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে যে কোন ব্যক্তি হাত দিয়ে ধরতে পারবে বিদ্যুতের তার । পাশাপাশি কয়েকটি ভবনের সাথেই রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই যুগের ব্যবধানে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎস্পশে শিশুসহ ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে। এমন অবস্থায় স্টিলের তৈরি বিদ্যুতের খুঁটিটি অপসারণ না হওয়ায় আশপাশের বসবাসকারিদের ভিতরে দূর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাওলানা ভাসানী সড়কের বাসিন্দা স্কুল ছাত্রী অহনা, মেহেজাবিন ও ঐশী বলেন, সর্তক ভাবে থেকেও ভয় হয়, কারন ১১ হাজার কিলোভোল্টের বিদ্যুতের তার আমাদের বাসার অনেক নিকটে । আর বেশি ভয় হয় বর্ষার সময় । তারা আরো বলেন, বৃষ্টির পানিতে ভিজে ইট সিমেন্ট এর দেয়ালও অনেক সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় । স্থানীয় মেহেদি হাসান, শহিদ হাওলাদার , সফিকুল ইসলাম বলেন, বছর কয়েক পূর্বে এই বিদ্যুৎপৃষ্টে মারা গিয়েছিল এক মাদ্রাসার ছাত্র । একইভাবে ৭০ দশকে ঘুড়ি নামাতে গিয়ে ঐ স্টীলের বিদ্যুতের খুঁটিতে প্রান যায় আকবর আলী মোল্লার । এছাড়া ইমারত শ্রমিক সোহেল এবং মামুন নামের ভাড়াটিয়া একই লাইনে বিদ্যুতস্পৃষ্টে মারা গেছে । তারা আরো বলেন, চলতি বছরের ৫ জুন বিকেলে বৈদ্যুতিক পোষ্টে ঝুলেই লাইনম্যান ফয়সাল হাওলাদারের মৃত্যু ঘটে ।
এ বিষয় পাওয়ার ডিস্ট্রিবউশন কোম্পানী (ওজোপাডিকো) এর রূপাতলী ও কালীজিরা ফিডারের দায়িত্বরত (ইঞ্জিনিয়ার ) মো. মাহাদী হাসান বলনে, সাধারণ মানুষের সমস্যা হবে, এমন কাজ বিদ্যুত অফিস করবে না । সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখা হবে।
এইচকেআর