আগৈলঝাড়ায় ইউএনও’র সহযোগিতায় বেইলি সেতু সংস্কার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অবশেষে বেইলী সেতু অপসারণ করে নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেমের সহযোগিতায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে সেতুটি অপসারণ নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে । এর আগে বইলী সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পাটাতনগুলো মরিচা ধরে বিভিন্নস্থানে ভেঙ্গে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল ।
জানা গেছে উপজেলার সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে খালের উপর ৩০ বছর আগে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত হয় বেইলী সেতু । কিন্তু অজন্ত ও অবহেলার কারনে সেতুটির পাটাতনগুলো মরিচা ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনা এড়াতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি । বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থী, গৈলা বাজারের ব্যবসায়ি-পথচারী ও চলাচল করছে যানবাহন । সেতুর বিভিন্ন স্থানে মরিচার কারণে ছোট-বড় গর্ত হওয়ায় ওই গর্তে পরে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। পরবর্তিতে সেতুটির বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়ায় মরণফাঁদে পরিণত হওয়ায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে । চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সেতুর উপর দিয়ে অসংখ্য ভারী যানবাহন চলাচল করতো। এছাড়াও সেতুটি পারাপারের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হত যানবাহন ও পথচারীদের।
এমতাবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেমের সহযোগিতায় বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে বেইলী সেতুটির অপসারণ করে নতুন করে সংস্কার হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হল । কালুপাড়া গ্রামের রিফাত হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতো। এজন্য আমাদের সব সময় আতংকের মধ্যে থাকতে হতো। সেতুটি সংস্কার হওয়াতে এখন আর যানবাহনসহ পথচারীদের দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হবে না।
সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক জানান, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খুলে দেয়ার আগে সেতুটি সংস্কার হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখন থেকে চলাচল করতে পারবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাশেম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সংস্কারের জন্য বরিশাল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুমন হোসেনকে বলা হলে তিনি সেতুটি সংস্কারের ব্যবস্থা করেন। সেজন্য তাকে উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান। এব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সুমন হোসেন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে জানানোর পরপরই সেতুটি অপসারণ করে নতুন করে সংস্কার করে দেয়া হয়েছে।
এইচেকআর