উপকূলের সংকট জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান তথ্য সচিবের

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এসব সংকটের পাশাপাশি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী প্রভাব গণমাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কোডেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে এখন আর কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, পানি, বসতি, অর্থনীতি ও জীবিকার বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত।
ফলে জলবায়ু নিয়ে সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে শুধু ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরলেই হবে না; সংকটের কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় অভিযোজন উদ্যোগ, সরকারি কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য সমাধানও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপকূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব সমস্যা, জলবায়ুজনিত সংকট এবং তাদের টিকে থাকার কৌশলগুলো তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব গ্রেড-১) মুহাম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মানসম্মত প্রতিবেদন তৈরির জন্য সাংবাদিকদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের দক্ষতা থাকতে হবে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গবেষণালব্ধ তথ্যের সমন্বয় করে প্রতিবেদন তৈরি করা গেলে তা জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে পটুয়াখালীর বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও তরুণ জলবায়ু কর্মীসহ ২৫ জন অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় ঝুঁকি নিয়ে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, অনুসন্ধানী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত প্রতিবেদন তৈরির সক্ষমতা বাড়বে।
এইচকেআর