ঢাকা রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

Motobad news

বরিশালে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে ঝালকাঠি-পিরোজপুর

বরিশালে করোনা সংক্রমণের শীর্ষে ঝালকাঠি-পিরোজপুর
ছবি: ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের মানচিত্র
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বরিশালে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি। চলমান লকডাউনের মধ্যেও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। সবশেষ ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় আরও ৪৫৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। একই সময় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। যার মধ্যে ৭ জন ছিলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

এদিকে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে বিভাগের সীমান্তবর্তী পিরোজপুর এবং ঝালকাঠি জেলা। এ দুটি জেলায় শনাক্ত এবং মৃত্যু দুটির হারই বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ।

অপরদিকে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার বেড়েছে। ওই সময়ে মোট পরীক্ষা করা ১৮৮ জনের ১৩৯ জনেরই পজেটিভ এসেছে। সে হিসেবে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে নতুন করে ৪৫৯ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। একই সময় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এ নিয়ে বিভাগে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫৩২ জনে। এছাড়া এ যাবৎ ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের। তাছাড়া সুস্থতা লাভ করেছেন ১৫ হাজার ৩৯৪ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বর্তমান সময়ে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর এবং ঝালকাঠি। এদুটি জেলায় মৃত্যু এবং শনাক্তের হার সব থেকে বেশি। বিভাগে সবশেষ যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন পিরোজপুর এবং দুজন ঝালকাঠির।

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় পিরোজপুর জেলায় মোট ৮৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলাটিতে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। পাশাপাশি ঝালকাঠি জেলায় নতুন ১০৪ জনসহ মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের।

যদিও গর হিসেবে এখনো সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে বরিশাল জেলা। এ জেলায় ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৭৮ জন শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে বরিশাল সিটি এলাকার ১০০ জন। এ জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৩২ জন।

এছাড়া পটুয়াখালীতে নতুন ৩৬ জনসহ মোট ২ হাজার ৬১৯ জন, ভোলা জেলায় সর্বনিম্ন ১৪ জনসহ মোট ২ হাজার ১১৭ জন এবং বরগুনা জেলায় নতুন ৪৩ জনসহ মোট ১ হাজার ৫৭২ জন আক্রান্ত এবং ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ে উত্তরাঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেই। ওই অঞ্চলের সাথে বরিশাল বিভাগে সড়ক যোগের প্রধান পথ হচ্ছে পিরোজপুর।

এ জেলার পরেই খুলনা জেলা। যেখানে ভারতীয় ভেরিয়েন্টও শনাক্ত হয়েছে। অথচ ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই খুলনার সাথে পিরোজপুর-ঝালকাঠি এবং বরিশালের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। যে কারণে ঝালকাঠি এবং পিরোজপুরে বর্তমান সময়ে সংক্রমণের হার বেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি বুঝতে পেরে আগেভাগেই আমরা বরিশাল অঞ্চলের সাথে খুলনার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছিলাম প্রশাসনকে। তাৎক্ষনিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা বন্ধ করা হলে হয়তো সংক্রমণ এতটো ছাড়িয়ে পড়তো না। তাছাড়া এ দুটি অঞ্চলে মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা কম বলেও মনে করছেন তিনি।

অপরদিকে, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংরক্ষক মো. আবু জাকারিয়া বলেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালে করোনা ইউনিটের অবজারভেশন ওয়ার্ডে নতুন করে ৫৪ জন এবং করোনা ওয়ার্ডে তিন জন ভর্তি হয়েছেন।

একই সময় উপসর্গ নিয়ে ৭ জন ও আক্রান্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে করোনা ইউনিটে ৪৬ জন পজেটিভ রোগীসহ মোট ২৩৬ জন চিকিৎসাধীন আছেন। যা করোনা মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

আবু জাকারিয়া আরও জানিয়েছেন, ‘শেবামেক এর আরটি পিসিআর ল্যাবে পূর্বের ন্যায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। সে হিসেবে পজেটিভ শনাক্তের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।


কেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন