পিরোজপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত পরীক্ষার্থী

পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক পরীক্ষার্থী আহত হয়েছে। রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন মাঠে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মেহেদী হাসান (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
(২০ এপ্রিল) সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিরোজপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হেলালুর রহমান। আহত মেহেদী হাসান প্রতিষ্ঠানটির এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার দুপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হলে মেহেদী হাসান গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একই প্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, কী কারণে এই হামলা হয়েছে, আমরা জানি না। স্টেডিয়ামের সামনে যেতেই অপর গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মেহেদীর মাথা ফেটে যায়।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মনিউল হাসান জানান, প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতারা এসব ঘটনার মীমাংসা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। ফলে সংঘর্ষের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হেলালুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি প্রথমে একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন। পরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. স্বাগত হালদার জানান, আহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছিল। তাকে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরেও একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের ধারণা, কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর আইনি পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।