ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

এবার ডায়রিয়া নিয়ে চিন্তিত বরগুনা, জেলাজুড়ে ভয়

এবার ডায়রিয়া নিয়ে চিন্তিত বরগুনা, জেলাজুড়ে ভয়
ছবি অনলাইন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরগুনায় হামের প্রকোপ কাটতে না কাটতেই এবার জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া। প্রতিদিন জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিড় করছেন শত শত আক্রান্ত রোগী। শয্যাসংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। একদিকে ওষুধের অভাব, অন্যদিকে জনবল সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বরগুনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের এক জানুয়ারি থেকে আজ (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ৩৫৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে গত এক মাসে (২৩ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল) আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৬৪০ জন। গত ৭ দিনে (১৬ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল) আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২০ জন, আর গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩ হাজার ১০৯ জন।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, শয্যা সংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে জরাজীর্ণ ভবনের মেঝেতে। রয়েছে ওষুধ, শয্যা ও চিকিৎসক সংকট। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে হাম আক্রান্ত ও স্বজনদের মাঝে। অন্যদিকে এক জানুয়ারি থেকে আজ (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৩০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন। যার মধ্যে পরীক্ষা নিরীক্ষায় হাম সনাক্ত হয়েছে ৩৮ জন। এ পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫ জন।   

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তৃতীয় লিঙ্গের সিমু আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বেড পাই নাই, ওষুধ নাই, হাম এবং ডায়রিয়া রোগী একত্রে থাকতে হচ্ছে। যার ভোগান্তির কোনো সীমা নাই।’ মো. আবজাল হোসেন নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালের পুরাতন একটি ভবনে ডায়রিয়া রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে। যেখানে খুবই নোংরা পরিবেশ। টয়লেটে যাওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়া লাগে।’

বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজাওয়ানুর আলম বলেন, দূষিত পানি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারই ডায়রিয়া ছড়ানোর প্রধান কারণ। বর্তমানে হাসপাতালে রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রয়েছে ওষুধ, শয্যা ও জনবল সংকট। তার মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার অন্তত দ্বিগুণ রোগী অবস্থান করছেন। যাদেরকে সামলানো খুবই কঠিন।


এ বিষয়ে বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, প্রতিবছরই এই সময়ে ডায়রিয়ার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সে তুলনায় এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবায় এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্যালাইনের সংকট নেই। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগীরাই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
 


গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন