ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশালসহ দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়ের শঙ্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সোবার্স মারা গেছেন বরিশালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটর শোভাযাত্রা মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে: চরমোনাই পীর প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দারকে ফুলেল শুভেচ্ছা দাপুটে জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ চালার টিন খুলে ব্যবসায়ীর ঘরে চুরি, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট শিক্ষক আবু তৈয়ব কর্মস্থলে প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থেকেও পেলেন পদোন্নতি  ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে: মির্জা ফখরুল
  • ডা. তৌফিকের মৃত্যু:  তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

    ডা. তৌফিকের মৃত্যু:  তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    চিকিৎসায় অবহেলার কারণে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক এনামের মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগে ল্যাবএইড হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট ডা. মামুন আল মাহতাবসহ তিন হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    আজ রবিবার (২০ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর আদালতে ফিজিওথেরাপিস্ট মো.আখতারুজ্জামান মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

    মামলার অপর আসামিরা হলেন ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ল্যাপরক্সপিক সার্জন প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব খান ও বিআরবি হাসপাতালের হেপাটো বিলিয়ারি সার্জন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী।

    এদিন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। এরপর শুনানি শেষে আদালত মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ মে ডা. তৌফিক এনাম অসুস্থ হলে তাঁর বাবা আখতারুজ্জামান মিয়া তাঁকে ডা. আবদুল ওহাব খানের কাছে নিয়ে যান। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে আবদুল ওহাব তাঁর অধীনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এসময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি জানান, রোগীর গলব্লাডারে পাথর হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন না করলে মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি। এরপর বাদী কোনো উপায়ন্তর না দেখে তাঁর কথা বিশ্বাস করে অপারেশনের জন্য টাকা দেন।

    কিন্তু গত ৫ মে ডা. আবদুল ওহাব খান অপারেশন করে পরদিন ৬ মে রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর গত ৯ মে সন্ধ্যার পর রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে ডা. আবদুল ওহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি রোগীকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন। আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দিলে সে অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট দেখে তিনি বলেন, ‘রোগীর অপারেশনের স্থানে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে কি-না এজন্য এমআরসিপি পরীক্ষা করতে হবে।’ এরপর জরুরি ভিত্তিতে ১১ মে পরীক্ষা করে কাগজপত্র নিয়ে গেলে আবদুল ওহাব বলেন, ‘অপারেশনের পর রোগীর কমন বিলেডাক্ট (common bileduct) চিকন হয়ে গেছে এবং অপারেশনের সময় একটি সমস্যা হয়েছে। রোগীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এর চিকিৎসা করলে ভালো হবে না।’

    এরপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে ডা. আবদুল ওহাব রোগীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল রোগীর কতগুলো পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে রোগীর ERCP with stenting (ইআরসিপি উইথ স্টেনটিং) করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি। যার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এরপর রোগীর প্যানক্রিয়েটিটিস (pancreatitis) বাড়তে থাকে এবং রোগী মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। সেসময় ডা. স্বপ্নীলকে বারবার ডাকলেও পাওয়া যায় না। আসছি, দেখছি ইত্যাদি বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি রোগীকে বিআরবি হাসপাতালের হেপাটোবিলিয়ারি সার্জন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলীর কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে রোগীকে জোর করে ডা. মোহাম্মদ আলীর কাছে পাঠান।

    এরপর আক্তারুজ্জামান মিয়া তার ছেলেকে সেখানে ভর্তি করেন। সেখানে আডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, 'রোগীর অবস্থা ভালো না। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে। অন্যথায় রোগীকে বাঁচানো যাবে না। এজন্য অনেক টাকা লাগবে।' কিন্তু রোগীর পরিবারের সদস্যরা বিআরবি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাননি। বরং তারা পিজি হাসপাতালে বা অন্য কোথাও চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জোর করে এবং ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রোগীকে বিআরবি হাসপাতালে রেখে দেন।

    এরপর গত ২৭ মে অপারেশনের জন্য প্রথমে দিন ঠিক করেন। কিন্তু ডা. আবদুল ওহাব অপারেশনের নামে অর্থের জন্য কালক্ষেপণ করে ৩০ মে আবার অপারেশনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। তখন মামলার বাদী আক্তারুজ্জামান ও সাক্ষীদের সন্দেহ হলে রোগীকে ছাড়পত্র দেয়ার জন্য ডা. মোহাম্মদ আলীকে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। জোরপূর্বক টাকা আদায়ের জন্য হাসপাতালে রেখে দেন। রোগী মারা যাওয়ার পরও ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, 'রোগী ভালো আছে। ভালো হয়ে যাবে।' এইভাবে টাকা আদায় করেন তারা।

    এছাড়া ওই ঘটনায় গত ১৫ জুন কলাবাগান থানায় মামলা করতে গেলে গ্রহণ না করে আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়। আসামিরা পেনাল কোডের ৩০৪-ক ও ৩৮৬/৪০৬/৪২০ ধারায় সুনির্দিষ্ট অপরাধ করেছেন। এমতাবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ন্যায়বিচারের স্বার্থে একান্ত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ