বাকেরগঞ্জে এক বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আটক ২

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে একটি বসতঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় দুই ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকৃতরা হলো, উপজেলার ৩ নম্বর দাড়িয়াল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিলন খান ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নয়ন হাওলাদার। এছাড়া ডাকাতির ঘটনায় আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শুক্রবার বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগি জসিম উদ্দিন। যার মামলা নম্বর ১৪। শুক্রবার আটকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন।
এর আগে গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে ৩ নম্বর দাড়িয়াল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন বাড়িতে ঐ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ায় সম্প্রতি ছেলে-মেয়েসহ স্ব পরিবারে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ঢাকার নিটল মটরস লিমিটেড গ্রুপের সিনিয়র ডিজিএম জসিম উদ্দিন।
দীর্ঘদিন পর বেড়াতে আসায় অন্যান্য আত্নীয় স্বজনও আসেন তাদের বাসায়। গত ১৩ ডিসেম্বর বুধবার রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বসত ঘরের বিভিন্ন কক্ষে ঘুমিয়ে পরেন তারা। ডাকাতরা রান্না ঘরের জানালার গ্রীল কেটে ভবনের ভিতর প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সবাইকে দেশীয় অস্ত্রে জিম্মি করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
এসময় নগদ ২ লাখ টাকা ও প্রায় ১৪ ভরি স্বর্ণলংকার লুটে নিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, বুধবার রাত আড়াইটার দিকে ১০-১২ জনের ডাকাত সদস্য রান্না ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভিতরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র দা, ছেন ও চাপাতি দিয়ে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে জিম্মি করে নগদ দেড় লাখ টাকা ও ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু হোসেন জানান, এ এলাকায় পুলিশের টহল ও নজর না থাকার কারণে প্রায়ই চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আমরা এলাকাবাসী চাই এ এলাকায় পুলিশ প্রতিদিন টহল দেয়।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি আফজাল হোসেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় দুজনকে আটক করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ডাকাত সদস্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইচকেআর