বরিশালে থ্রী হুইলার স্ট্যাণ্ড দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬

বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে থ্রি হুইলার (আলফা) স্ট্যাণ্ড দখল নিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ ও শ্রমিক নেতা সুমন মোল্লা গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় রূপাতলী এলাকার মোল্লা মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে কাউন্সিলরের সমর্থক পিয়াল শেখ (২৮) গুরুতর জখম হয়েছে। তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া সুমন মোল্লা গ্রুপের আহত সদস্যরা হলেন, সাগর হোসেন, সাকিব হোসেন, শাহাদাত হাওলাদার, জাকির হোসেন ও রাজু।
আহত পিয়াল শেখ জানান, মোল্লা মাকের্টের পিছনে আমার বাসা। সুমন মোল্লা আমার বাসার সামনে মাইন্দ্রা (আলফা) জড়ো করে রাখেন। এতে বাসায় প্রবেশে সমস্যা হওয়ায় এক মাইন্দ্রা চালককে গাড়ি সরিয়ে নিতে বললে সে তর্কে জড়িয়ে পরে।
পরে রাগ করে একটি মাইন্দ্রা গাড়ির চাকা ফুটা করে দেই। এনিয়ে সুমন মোল্লার ভাই মিলন মোল্লা দলবল নিয়ে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চেষ্টা করে। তখন দৌড় দিলে তাদের অস্ত্রের আঘাত আমার পায়ে লাগে। পরে পিটিয়ে জখম করে তারা। এ খবর আত্নীয় স্বজনদের কাছে পৌছলে তারা আসলে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উভয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী।
কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ জানান, নতুন মেয়র এবং তিনিসহ পরিষদের সদস্যরা গতকাল সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। এই আয়োজনকে ঘিরে যে যার মতো লোকবল নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সম্মুখে যায়। সেখানে তার লোকজনও যেমন গিয়েছে, তেমনি সুমন মোল্লাও তার বাহিনী নিয়ে গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আয়োজন শেষ করে রুপাতলী ফিরে আসার পর সুমন মোল্লার ভাই মিলন মোল্লা ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিয়ে পিয়ালকে তার বাসার সামনে মোল্লা মার্কেটে কোপায়।
তখন আত্মরক্ষার্থে পিয়াল দৌঁড়ে গিয়ে রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের পাশে হুমাহুম রেস্তোরাঁর সম্মুখে অবস্থান করলে সেখানে গিয়েও মিলন মোল্লা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় পিয়ালকে উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সুমন মোল্লা একজন সন্ত্রাসী এবং তিনি নিজেকে নতুন মেয়রের অনুসারী দাবি করে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সৃষ্টি করে চলছেন।
তবে জেলা ও মহানগর মাইন্দ্রা চালক ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুমন মোল্লা বলেন, মেয়রের অভিষেক আয়োজনে কাউন্সিলর সুলতানের লোকজনের অপেক্ষা তার কর্মীবাহিনী বেশি অংশ নেন, যা দেখে তিনি সংক্ষুব্ধ হন। আয়োজন শেষে তিনি মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সন্ত্রাসীদের পাঠিয়ে দেন।
তখন তাদের সাথে শ্রমিকদের সংঘাত হয় এতে তার পক্ষের অন্তত ৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও পেটানো হয়, দাবি করেন সুমন মোল্লা।
তিনি আরো বলেন, সংঘর্ষের পরেই কাউন্সিলরের ভাইয়ের ছেলে সোহেল আমার লোকজনকে মারধর করে মাইন্দ্রা স্ট্যাণ্ড দখলে নিয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম গিয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি শান্ত করে।
কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই আরাফাত রহমান হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল যাওয়ার আগেই উভয়গ্রুপের সদস্যরা সটকে পড়েছে, ফলে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এইচকেআর