জুলাই আন্দোলনে নিহত মামুনের পরিবারের মানবতার জীবনযাপন

দেশের পরিবর্তনের জন্য গুলি খেয়ে বাবা প্রাণ দিয়েছেন। এখন আমরা চার এতিম ভাইবোন কার কাছে দাঁড়াব? কে আমাদের মানুষ করবে’-কথাগুলো বলছিল জুলাই-আন্দোলনে শহীদ মামুন খন্দকারের অসহায় সন্তানরা।
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের মৃত মজিবর খন্দকারের ছেলে মামুন খন্দকার ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় গার্মেন্টস ব্যবসা করতেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের সমর্থকদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন মামুন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামুনের স্ত্রী সাথী খন্দকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামুনের ভাই মাহমুদুল হাসান খন্দকার বলেন, পরিবারের জন্য উপার্জন করতে ঢাকায় গিয়ে আশুলিয়ায় বসবাস করতেন মামুন। সেখানেই স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। যারা গুলি করে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
ছোট মেয়ে তাওহিদা জানায়, ৪ আগস্ট বাবা বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে আর ফেরেননি। আন্দোলনের সময় আমাদের বাড়িতে লোকজন এসে হুমকি দিয়েছিল। পরে শুনতে পাই বাবা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে আছেন। যারা বাবাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
তৎকালীন মঠবাড়িয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে নিহত মামুন খন্দকারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্ত শেষে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
পরিবার বলছে, মামুন খন্দকারের মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়েছে তার চার সন্তন। এখন তাদের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে উঠবে-সেই প্রশ্নই তাদের বুক চিরে বেরিয়ে আসছে প্রতিদিন। স্থানীয় ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি বলে শহীদ পরিবারের লোকজন জানান।