গৌরনদীতে ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুর স্লাব ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্তে দুই টিম

বরিশালের গৌরনদীতে নির্মাণাধীন একটি সেতুর স্লাব ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের একটি তিন সদস্যের তদন্ত দল এবং বরিশাল জেলা প্রকল্প কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন আরেকটি টিম।
এর আগে গত বুধবার (২২ জুলাই) সকালে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গার্ডার সেতুটির মাঝের স্লাবে ঢালাই দেওয়া হয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়।
গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় আহম্মেদকাঠী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরিশালের ডায়নামিক আইসিটি এসপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে গৌরনদীর ঠিকাদার আবুল খায়ের কাজটি শুরু করেন।
চলতি বছরের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা থাকলেও সেটিও সম্ভব হয়নি। পরে চলতি মাসে আবার কাজ শুরু করে সেতুর দুই পাশের স্লাব ঢালাইয়ের পর মাঝের স্লাব ঢালাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্লাবটি ধসে পড়ে।
গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খোকন চন্দ্র বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ের আগে তাকে জানিয়ে তার উপস্থিতিতে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু তাকে না জানিয়েই ঠিকাদার কাজ করেন। তার মতে, অনিয়মের উদ্দেশ্যেই এভাবে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঠিকাদার আবুল খায়ের দাবি করেন, ঢালাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে আসেননি।
দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ঠিকাদারের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বরিশাল জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার। তিনি বলেন, স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী ঠিকাদারের অনিয়ম ও অবহেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং এর দায়ভার ঠিকাদারকেই নিতে হবে।
এইচকেআর