কেউ কামেও নিতে চায় না, সংসার চালামু কেমনে !

একের পর এক অবরোধ। তাই হাতে কাম নাই। কেউ কামে নিতে চায় না। কিন্তু কাম না পাইলে তো সংসার চলে না। জিনিসপত্রের যে দাম ! আমাগো এখন আধমরা অবস্থা চলতাছে। এমন আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন দিনমজুর রমজান আলী (৩৮)। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার তজুমদ্দিনে।
৫ বছর ধরে তিনি নগরীর ধানগবেষণা সড়কে থাকেন। প্রতিদিন শ্রম বিক্রি করে চলে তাঁর সংসার। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর সাগরদি এলাকায় কাজের সন্ধানে বের হওয়া অন্যান্য শ্রমিকদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা রমজান আলীর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের।
রমজান আলী জানান, ভবন (বিল্ডিং) ও রাস্তার কামে রাস্ত্রমিস্ত্রিকে সহযোগিতা, মাটির কাজসহ সব শ্রমের কাজ করি। এহন আবার অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাজ পাই না। স্ত্রী ও তিন পোলাপাইন লইয়া অসহায় হয়ে পড়েছি।
সেখানে তখন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক জড়ো হয়ে ছিলেন। শ্রমিকেরা বলেন, সাগরদি এই শ্রমের হাটে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৫০ শ্রমিক আসেন।
সকাল ছয়টা থেকে শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। কোদাল, টুকরি, খাবারের পোঁটলা নিয়ে শ্রমিকেরা অপেক্ষায় থাকেন। ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকায় তাঁরা দিনের হিসাবে মজুরিভিত্তিতে শ্রম দেন।
শ্রমিক ইদ্রিস হোসেন, মনির হোসেন, নয়ন হাওলাদার জানান, এমনিতে শ্রমের হাটে আসা শ্রমিকদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ প্রতিদিন কাজ পান।
তবে হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর এতে ভাটা পড়ে। এ সময়টাতে গড়ে ৫ শতাংশ শ্রমিক কাজ পাচ্ছেন। বাকিরা বেকার আছেন। কাজ কমে যাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তারা।
নির্বাচন সামনে রেখে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি আরও বাড়বে, এমন আশঙ্কায় সে সময়টাতে কাজ মিলবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত দিনমজুরেরা।
এদিকে গতকাল দুপুরে নগরীর নগর ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতে হকাররা পোশাক, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন। সকাল ৯টা থেকেই তারা পণ্য নিয়ে বসেন। তারা বলছেন, অবরোধের কারণে কেউ দোকান বন্ধ করেনি। তবে অবরোধে প্রভাব পড়েছে বেচাবিক্রিতে। ক্রেতা না থাকায় বিক্রি কমেছে তাদের।
পুরনো প্যান্ট, শার্ট বিক্রি করা ব্যবসায়ি জাকির হোসেন বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি ৮০০ টাকা বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, শীতের জামা-মোজা এখন বিক্রির সময়। কিন্তু বিক্রি কমে গেছে।
বিক্রেতা সবুজ ও আব্দুস সোবাহান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হবে এটা আশা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ আমরা না হয় দোকানপাট খোলা রেখেছি। কিন্তু ক্রেতা তো ভয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন না। ক্রেতা না থাকলে আমরা বিক্রি করবো কোথায়। অবরোধ দীর্ঘায়তি হলে আমাদের ক্ষতি হবে অনেক।
এমএন