এখনো শেষ হয়নি সিলেবাস,অনেক স্কুলে আগামী সপ্তাহেই বার্ষিক পরীক্ষা শুরু

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে দেশের মতো বরিশালেও শুরু হচ্ছে সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার শুরুর সময় ঘনিয়ে আসলেও এখনো অনেক স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়নি পরীক্ষার সিলেবাস। এতে ক্ষুদ্ধ শিক্ষাথী ও তাদের অভিভাবকরা।
রূপাতলী জাগুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ব্যাপিস্ট মিশন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জিলা স্কুল, এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে তারা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করতে অনিহা জানিয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়ানোর ভিতরে সীমাবদ্ধ থাকছেন শিক্ষকরা। এতে তারা ভালো ফলাফল করবেন কি না, তা নিয়ে শিক্ষকদের কোনো চিন্তা নেই। তবে যারা নিয়মিত ১৫০০-২০০০ টাকা দিয়ে কোচিং করছে, তাদেরকে বিশেষ পদ্ধতিতে সিলেবাস সম্পন্ন করে পড়ানো হচ্ছে।
উদয়ন স্কুলেও একই অভিযোগ জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, আগামী কয়েকদিন পরে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলেও ক্লাসে এখনো নতুন পড়া দিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। কিন্তু কোচিং ছাড়া সাধারণ ক্লাসে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। এটা শিক্ষকসুলভ আচরণ হতে পারে না বলে মনে করেন তারা।
এ ধরনের ঘটনা দিনে পর দিন চললেও অভিভাবকরা কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না ক্লাসে তাদের সন্তান হেনস্তা হবে ভেবে। তবে শিক্ষকদের দাবি, সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়েছে। সেভাবেই সময়মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে নগরীর ব্যাপিস্ট মিশন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনো বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস পায়নি। খোদ স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সীমা বেগমও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, আমার ছেলেও এখনো সিলেবাস পায়নি। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের রিংডি পড়ানো হচ্ছে। সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষকদের পাঠদান করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সীমা বেগম।
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া সুলতানা বলেন, বছরের প্রথম দিকেই সিলেবাস দেয়া হয়। সে অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিবেন শিক্ষার্থীরা। নতুন কারিকুলামে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নেয়া হবে।
সাগরদী এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এনায়েত হোসেন মল্লিক জানান, এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী সিলেবাস না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেনি। সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাসে পাঠদান করানো হচ্ছে।
রূপাতলী জাগুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আলম গাজী বলেন, সিলেবাস না পাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণি বাদে অষ্টম এবং নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সিলেবাস দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষার পাঠদান করানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বরিশালের এডিসি (শিক্ষা) মনদীপ ঘরাই বলেন, এ বিষয়ে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলবো। যারা এখনো পায়নি তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেবাস পাবেন।
এমএন