ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেত্রী নাসরিন স্পিকারের সঙ্গে মজিবর রহমান সরোয়ার'র সৌজন্য সাক্ষাৎ ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু: আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এখন থেকে রাতের ভোটে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না: জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ মঠবাড়িয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য শামিম শাহনেওয়াজের বাবা মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে : ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এসআরবি’র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ: গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশের গুঞ্জনের মধ্যেই ইশরাকের বার্তা
  • চার মাস ধরে ভোলার ১০ গ্রামে বিদ্যুুৎ নেই

    চার মাস ধরে ভোলার ১০ গ্রামে বিদ্যুুৎ নেই
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সাবমেরিন ক্যাবল লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও সচল হয়নি ভোলার মদনপুর ও কাচিয়া ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন।

    বিচ্ছিন্নের পর চার দফা চেষ্টার পরেও মেরামত হয়নি লাইনটি। এতে বিদ্যুৎ নেই ভোলার মদনপুর ও কাচিয়া ইউনিয়নে ১০টি গ্রামে। ফলে বিদ্যুৎবিহীন দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে লোকসান গুনছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে খুব দ্রুত লাইনটি মেরামত করা হবে। তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

    জানা গেছে, ভোলা সদরের মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর এলাকা ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মেঘনার ৮০ ফুট গভীরে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাঝের চর ও মদনপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় পল্লী বিদ্যুৎ। প্রায় ৭ মাস পর গত ২৩ জুলাই সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যায়। তখন চার দফা চেষ্টা চালিয়েও লাইন মেরামতে ব্যর্থ হয় পল্লী বিদ্যুৎ। এরপর থেকে ওই দ্বীপ দুটি অন্ধাকারে রয়েছে।

    পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ধারনা, মেঘনা নদী দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে জাহাজসহ বিভিন্ন নৌ-যান চলাচল করায় সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যায়। ভোলা-চট্টগ্রাম রুটের তলদেশ দিয়ে ভোলা সদরের তুলাতলী থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল টানা হয়েছিলো মাঝের চর ও মদনপুরে। ওই নৌ-পথ দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে নৌ-যান চলাচল করায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

    এদিকে বিদ্যুৎ সুবিধা চালুর পর যারা সৌর বিদ্যুতের বদলে বিদ্যুৎ সংযোগ এনেছিলেন তাঁরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিশেষ করে বেশিরভাগ গ্রাহকের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এখন নষ্টের পথে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।

    মাঝের চরের বাসিন্দা রহিমা বেগম ও শারমিন আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ আসার পর আমরা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি, এখন বিদ্যুৎ নেই চার মাস। না চালানোর কারণে সৌর বিদ্যুৎ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন নষ্ট হতে চলছে বিদ্যুতের ফ্যান, বাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ না থাকায় বেশি সমস্যা হচ্ছে ব্যাবসায়ীদের। ফ্রিজে কোন খাবার সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না বলে আর্থিকভাবে লোকসানে পড়ছেন তারা।


    মদনপুরের বাসিন্দা লুৎফর পাটোয়ারি বলেন, এতো দিন বিদ্যুৎ ছিলো, ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা ভালো ভাবেই করতো। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশুনায় সমস্যা হচ্ছে।

    মাঝের চর ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আঃ রব জানান, মাঝের চরে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। বেশিরভাগ মানুষ তাদের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছিল। এতে তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছিলো, যা কিনা এখন থমকে গেছে।

    কাচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম নকিব বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এতো দিন যারা সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন তারাও পড়েছেন বিপাকে। অতিরিক্ত মূল্যে কেরোসিন কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সাবমেরিন ক্যাবল মেরামতের দাবী জানাই।

    এ অবস্থায় খুব দ্রুতই সাবমেরিন ক্যাবলের মেরামত শুরু হবে বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে বাংলাবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আলতাব হোসেন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবলের লাইনটি মেরামতের জন্য অনুমোদন হয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন আছে। খুব শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে।

    শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় সরকার ভোলা জেলার অন্যান্য দ্বীপের সাথে মাঝের চর ও মদনপুরে ১৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করে। এতে আলোকিত হয় দুই দ্বীপচর। এখন লাইন দ্রুত পুনঃসংযোগের মাধ্যমে আবারও এসব দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহে দাবী চরবাসীর।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ