ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

কর্তৃপক্ষ চাইলে ১২ সেপ্টেম্বর খুলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী

কর্তৃপক্ষ চাইলে ১২ সেপ্টেম্বর খুলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষামন্ত্রী
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলে দেওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিল চাইলে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো খুলে দিতে পারে। 

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে এ কথা জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারবো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে আমরা আবারও বসবো। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিল নেবে। আমরা উপচার্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা চেয়েছিলেন যে, অন্ততপক্ষে সব শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ টিকা নিতে পারলে ভালো হয়। সে অনুযায়ী অক্টোবরের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন আবার তাদের সঙ্গে কথা বলবো। তারা যদি অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই সঙ্গে খুলতে রাজি হলে খুলবেন কিংবা উনারা ভিন্ন কোনও তারিখও নির্ধারণ করে নিতে পারেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের দুই মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আমাদের জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে সভা করেছি। ৫ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। এমনকি স্কুল খুলে দেওয়ার পরে আমাদের দৈনিক বাধ্যতামূলক একটি প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয় রয়েছে। যেন খুব কঠোরভাবে আমরা মনিটরিং করতে পারি। যাতে স্কুল, কারিগরি, মাদ্রাসার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি সকলে মেনে চলে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের টিকাদান এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগে বলেছিলেন ১৮ বছরের বেশি যারা তাদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। এখন তিনি বলেছেন ১২ বছরের বেশি যারা তাদেরকেও টিকা দেওয়ার কাজ শুরু করতে। যেহেতু সব টিকা ১২ বছর বয়সীদের দেওয়া যায় না। কাজেই যে টিকাগুলো দেওয়া যায় সে টিকাগুলো সরকার আনার ব্যবস্থা করছে। আমরা সেগুলো পর্যায়ক্রমে দেবো। তবে এখন আশা করছি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিতে পারবো।

তিনি বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে-বাইরে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানতে হবে। এ বিষয়টি শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও জনগণের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়াস লাগবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ১৭ মাস বন্ধ ছিল। এটির সুফল আমরা পেয়েছি। আমাদের দেশে সংক্রমণ সেভাবে বাড়েনি। কিন্তু এখন যখন আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছি- তার কারণ একদিকে ভালো হলেও অন্যদিকে শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক নানা ধরনের সমস্যাও আছে। সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সংক্রমণের হার দ্রুতই কমে যাওয়ায় আমরা সেই সিদ্ধান্তই এখন নিচ্ছি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সকলকে সচেতন হতে হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর পৌর মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ বিশ্বাস, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এইচেকআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন