বরিশাল বোর্ডে এইচএসসির পাসের হার ৪৪.৮৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০

এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই কমেছে। তবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্যে এগিয়ে রয়েছেন।
এ বছর বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা।
ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি বলেন, এবারের ফলাফল যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার প্রতিফলন ঘটেছে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বোর্ডের অধীন বিভাগের ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে মোট ৫৭ হাজার ৯১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ছাত্র ২৬ হাজার ৭৫৫ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ১৫৭ জন। পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬৭৪ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্ট। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৭২৪ জন।
তবে সার্বিক ফলাফলের বিচারে ছেলেদের পেছনে ফেলে সাফল্যের শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে নারী শিক্ষার্থীরা। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৯৫০ জনের মধ্যে ৬০৭ জন ছাত্রী এবং ৩৪৩ জন ছাত্র, যা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে নারী শিক্ষায় ইতিবাচক।
ফলাফল প্রকাশের পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেয়েদের এই ধারাবাহিক উন্নতি মেধা ও শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহেরই প্রতিফলন।
উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি যারা আশানুরূপ ফল করতে পারেনি, তাদের ধৈর্য ধরে আগামীতে আরও ভালো করার পরামর্শ দিয়েছেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা ।
তিনি আরও জানান যে, বোর্ডের ১১ টি কলেজের ফলাফল শূণ্য । কোনো শিক্ষার্থীই পাশ করে নাই। তাদের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গঠনমূলক ও উপযুক্ত জবাব পাবেন বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ ।
ফল প্রকাশকালে উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. কামরুজ্জামান কামাল, উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান মাহমুদ ও সিস্টেম এনালিস্ট এফ.এম শহীদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এইচকেআর