পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে বরিশাল সিভিল সার্জনের কালো আইন

সরকারি মালামাল ক্রয়ে নীতিমালার বাইরে অযৌক্তিক শর্ত আরোপের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে। এ কারণে ইচ্ছা থাকলেও সকল শ্রেণির ঠিকাদার অংশ নিতে পারছেন না চিকিৎসা সড়ঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের দরপত্র প্রতিযোগিতায়।
সাধারণ ঠিকাদারদের অভিযোগ নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেই সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান পিপিআরে নেই এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন দরপত্রের নোটিশে।
তবে যা কিছুই করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ পিপিআর অনুযায়ী করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সিভিল সার্জন। তবে আরোপিত শর্ত পিপিআরের কোথায় আছে তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
জানাগেছে, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ই-টেন্ডার আহ্বান করেন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলার সিভিল সার্জন। শর্তানুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
সরকারি কেনাকাটায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) ২০০৬ অনুসারে গেজেটের ৭ (ক) (খ) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, “যোগ্যতা নির্ধারণে এমন কোন শর্ত আরোপ করা যাবে না যা নতুন নিবন্ধিত ব্যক্তি বা উদ্যোক্তাদের টেন্ডারে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ করে। কেবল দীর্ঘ মেয়াদী অভিজ্ঞতা, উচ্চ বার্ষিক টার্ণ-ওভার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা অথবা একক বৃহৎ চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতাকে বাধ্যতামূলক করা যাবে না।
তবে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে দরপত্র আহবানে তিনটি শর্ত আরোপ করেছেন জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। যা পিপিআর’র কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
যুক্ত করা শর্তানুযায়ী— ‘ইমেইলে কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়’, দ্বিতীয়ত ‘পূর্বে পণ্য আমাদানি করেছে এমন তিনটি বিল জমা দিতে হবে’। এবং তৃতীয় শর্ত চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের পাস বই দিতে হবে। যেগুলো নতুন উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধাস্বরূপ বলে মনে করছেন ঠিকাদাররা।
তাই সরকারি গেজেট ভেঙে এসব শর্ত চাপিয়ে দেয়া বন্ধ করতে এবং শর্ত পুর্নবিবেচনার দাবি জানিয়ে সিভিল সার্জসের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন— মেসার্স মর্ডান স্কায়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠাটির প্রধান সাব্বির হোসেন বলেন, “গেজেটে নতুন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির জন্য সুযোগ থাকলেও জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশালের সিভিল সার্জন কঠিন কঠিন শর্ত আরোপ করেছেন। আমরা মনে করছি পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ পাইয়ে দিতেই এসব শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান বলেন, “বিশেষ কাউকে কাজ পাইয়ে দিতে এমন শর্ত আরোপ করা হয়নি। যা করেছি সব পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালায় উল্লেক আছে। যদিও গেজেটের কপি তার হাতে তুলে দেয়া হলেও তিনি তাঁর জুড়ে দেয়া শর্ত পিপিআরের কোথায় আছে সেটা দেখাতে ব্যর্থ হন। ঠিকাদার ছাড়া সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অপরাগতা এবং পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, “আমি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে পুরো বিষয়টি বলতে পারবো।”
এইচকেআর