ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • পটুয়াখালীতে ইউপি সদ্স্যর স্বামীর দেয়া ভুয়া স্লিপে চাল নিতে এসে আটক ৫ লালমোহনে হোগলা পাতার বুননে সংগ্রামী নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প পবিপ্রবির রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পেলেন আতিকুর রহমান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী:  ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ফেসবুকে পোস্টের পরই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক থেকে দোকান উচ্ছেদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ উদ্যোক্তা গড়তে বিসিকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার বরিশালে গ্রেফতারকৃত আ’লীগ নেত্রী সুমিসহ দুইজনকে কারাগারে প্রেরণ বরিশালে নামাজ পড়া অবস্থায় ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করলো বড় ভাই  বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও গলাচিপার ইজাজুল হক
  • লালমোহনে হোগলা পাতার বুননে সংগ্রামী নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

    লালমোহনে হোগলা পাতার বুননে সংগ্রামী নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প
    হোগলা পাতা দিয়ে বিছানা বুনে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন লালমোহনের নমগ্রামের নারীরা।
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভোলার লালমোহনের গজারিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নমগ্রাম। এই গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক নারী হোগলা পাতায় নিজেদের ভাগ্য বদলানোর নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে নমগ্রামের নারীরা হোগলা পাতা দিয়ে তৈরি করছেন শীতল বিছানা (পাটি) ও হাতপাখা। এদের মধ্যে কেউ কেউ ১৫ থেকে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। সম্পূর্ণ নিজেদের গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে ঘরে বসেই তারা এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন এবং এর থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসারে স্বামীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

    নমগ্রামের ৩৮ বছর বয়সী কানন বালা ও ৫৫ বছর বয়সী জুথি রানী সম্পর্কে একে অপরের জা। তাদের স্বামীরা কেউ সেলুনে কাজ করেন, আবার কেউ দিনমজুর। সন্তানদের পড়ালেখা আর দৈনন্দিন সংসারের খরচ মেলাতে কেবল স্বামীদের আয়ে হিমশিম খেতে হতো। তাই হোগলা পাতার বিছানা বুনে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন তারা।

    একই গ্রামের আরেক সংগ্রামী নারী নন্দিতা। বিয়ের মাত্র আড়াই বছরের মাথায় স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। কোলজুড়ে থাকা একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি হোগলা পাতার বিছানা বুননের কাজ করছেন।

    কানন বালা, জুথি রানী ও নন্দিতারা জানান, "সংসারের রান্নাবান্না ও অন্যান্য কাজ শেষ করে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা হোগলা পাতা দিয়ে বিছানা বোনার কাজ করি। এভাবে দৈনিক ৬ থেকে ৭টির মতো বিছানা তৈরি করা সম্ভব হয়। পাইকারি বেপারীরা আমাদের বাড়িতে এসেই প্রতিটি বিছানা ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যান। হোগলা পাতার তৈরি এই বিছানা বিক্রির টাকায় এখন কোনো রকমে আমাদের সংসার ও সন্তানদের খরচ চলছে।"

    তবে হোগলা পাতার দাম বৃদ্ধি এবং পুঁজির অভাব এই শিল্পের নারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা সহজ শর্তে ঋণ পেলে তারা এই কাজকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারতেন বলে জানান স্থানীয় কারিগরেরা।

    এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত বিন সাদেক জানান, "দেশের প্রান্তিক ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা চালু রয়েছে। নমগ্রামের হোগলা পাতা শিল্পের সাথে জড়িত এই নারীরা যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন, তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণ সুবিধা বা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।"
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ