বাকেরগঞ্জে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জিনের মাধ্যমে অসুস্থতা সারিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের দালালপুর এলাকার মো. জসিম উদ্দিন মৃধার ছেলে মো. বায়জিদ (২৫), পক্ষীয়া ইউনিয়নের আ. রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. রনি হাওলাদার (২৬) এবং টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার আ. আজিজ চৌকিদারের ছেলে মো. ফজলে রাব্বি (২৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২১, ২২, ২৩, ২৭ ও ৩০ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ৩।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সাব্বির খান (২৪) বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মামুন খানের ছেলে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছিলেন সাব্বির। একপর্যায়ে ফেসবুকে একটি বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেওয়া মোবাইল নম্বরে রনি হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
এ সময় রনি তাকে জানান, আবু তালহা নামের এক হুজুর রয়েছেন, যিনি জিনের মাধ্যমে যেকোনো অসুস্থতা সারিয়ে তুলতে পারেন। সুস্থ করে দেওয়ার আশ্বাসে সাব্বির রাজি হলে তার কাছ থেকে গত ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিকাশের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল মোল্লা জানান, মামলা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলোর নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বোরহানউদ্দিনের বোরহানগঞ্জ বাজার থেকে বায়জিদ এবং কাছিয়া এলাকা থেকে রনি হাওলাদার ও ফজলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, মামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
এইচকেআর