ভোলায় অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তির মুক্তি চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা, অতঃপর

যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, মাদকসহ গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিতে ভোলা সদর থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে এলাকাবাসী। পুলিশের বাধার মুখে থানা ঘেরাও করতে ব্যর্থ হয়ে তারা থানা ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশও করে।
গত (৫ মে) মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা সদর থানার সামনে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে একদল ব্যক্তি এ কর্মসূচি পালন করে। গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৪২) সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামের সিদ্দিক ফরাজির ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে গ্রেপ্তার জাকিরের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তাদের হাতে থাকা ব্যানারে গ্রেপ্তার জাকিরকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহসভাপতি ও ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জাকিরকে উদ্দেশ্যমূলক গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে তার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে শোনা গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঘটনার দিন জাকির হোসেন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে করে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক নিয়ে ভোলায় আসছিলেন।
এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড বেইস ভোলা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি ও দুই কেজি গাঁজাসহ জাকিরকে আটক করা হয়। জাকির দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন নামের একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র, গাঁজাসহ আটক করে কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার বিকেলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে তাঁকে থানায় হস্তান্তর করেছে কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ডের এজাহার অনুযায়ী, থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে কিছু মানুষ জাকিরের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় আসার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় মিছিলকারীদের থানার ফটক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।