চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায় মোবাইল ফোনে ডেকে এনে হৃদয় হাওলাদার (২৩) নামের এক তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে রোববার সকালে উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাঁকে উদ্ধারে যাওয়া বাবাকেও এ সময় পেটানো হয়। হৃদয় দক্ষিণ কৈখালীর মো. আবদুল বারেক হাওলাদারের ছেলে। তিনি এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এতে বলা হয়, একই গ্রামের পারভেজ ও সাব্বিরের সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয় ও টাকা লেনদেন নিয়ে হৃদয়ের দ্বন্দ্ব চলছিলো। দুইদিন আগে হৃদয় পাশের বীনাপানি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে যান। রোববার সকালে পারভেজ তাঁকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে আনেন। হৃদয় নিজ বাড়িতে আসার পথে পারভেজ, সাব্বির, মিজান, প্রিন্স ও মেহেদী তাঁকে রশি দিয়ে গাছে বেঁধে ফেলে। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
খবর পেয়ে আবদুল বারেক হাওলাদার ছেলে হৃদয়কে উদ্ধার করতে যান। এ সময় তাঁকেও মারধর করা হয়। লিখিত অভিযোগে হৃদয় দাবি করেন, মারধরকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এমনকি দুই লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেন পারভেজ ও তাঁর লোকজন।
বারেক হাওলাদারের ভাষ্য, পারভেজের কাছে তাঁর ছেলে হৃদয় ২০ হাজার টাকা পাবে। এ টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর জের ধরে হৃদয়কে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন পারভেজ। তাঁর অভিযোগ, হৃদয় এলাকায় চোর হিসেবে পরিচিত। সুপারি ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে।
কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান বলেন, এ বিষয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।