বরিশালে চোখের সামনে আগুন তিনটি বসতঘর, মুহূর্তেই ধ্বংস হল আশ্রয়স্থল

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। আর সেই আগুনে চোখের সামনেই ধ্বংস হয় পরিবার তিনটির সব সঞ্চয়, আশ্রয়স্থল। ২৬ এপ্রিল রবিবার উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আরিফ সরদার, আওয়াল সরদার ও মান্নান সরদারের পরিবার মুহূর্তেই বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এলাকাবাসী ছুটে এসে নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও আগুন ততক্ষণে ভয়াবহ রূপ নেয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বের হতে পারলেও তাদের চোখের সামনেই পুড়ে যায় জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, স্বপ্ন আর আশ্রয়। খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তবে দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই তিনটি ঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। চেষ্টা সত্ত্বেও আগুনের তীব্রতার কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সবকিছু হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। ঘটনার খবর পেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ বখতিয়ার, এনায়েত হোসেন খান মনু, আবুল হোসেন মোল্লাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে এই অসহায় মানুষগুলোর পক্ষে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী দ্রুত পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।