ঢাকা বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে : বার্নিকাট দীর্ঘ ৯ মাস অনুপস্থিত, প্রকৌশলীকে খুঁজতে থানায় জিডি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০ : ইরান ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ৩ বরগুনা‍য় নারী কর্মীদের ধাওয়া, প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা ১ কোটি লিটার সয়াবিন, ৪০ হাজার টন ইউরিয়া কিনবে সরকার নলছিটিতে প্যানেল চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইটভাটাকে এক লাখ টাকা জরিমানা বোরহানউদ্দিনে মুক্তিপণের বিনিময়ে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলেন ৪ জেলে  আওয়ামী সরকারের আমলে যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচন ব্যবস্থা কলুষিত করে
  • অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  

    অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সরকারি তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার হালদারকে অবিলম্বে অপসারণের দাবি তুলেছেন কলেজটির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শিক্ষার্থীরা।

    সোমবার বেলা ১২টার দিকে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

    এসময় তারা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপ, চাকরি দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন।

     সংবাদ সম্মেলনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ডিগ্রি কলেজের অর্ধশত শিক্ষার্থী স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষার্থী নাঈম শিকদার। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার হালদার ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

    ‘সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    এসময় তপন কুমার হালাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং দুর্নীতির ১৬টি অভিযোগ তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগগুলো হল- ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের বোর্ড ফি ২১শ টাকার স্থলে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে নেয়া হয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের দিতে হয় ছয় হাজার টাকা।

     ডিগ্রি প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম পূরণ ও অন্যান্য ফি ১৮শ টাকা নির্ধারিত থাকলেও জনপ্রতি আদায় করা হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা করে।

     ২০২৪ সালে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বাবদ বোর্ড নির্ধারিত দেড় হাজার টাকার স্থলে আদায় করে নেয়া হয়েছে ৩৪শ টাকা করে।

    একই বছর একাদশ শ্রেণিতে ম্যানুয়ালে ভর্তি বাবদ জনপ্রতি আদায় করা হয় ৫ হাজার টাকা করে। যেখানে বোর্ড থেকে দেড় হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। উন্মুক্ত পরীক্ষা ডিগ্রি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ও ফরম পূরণ বাবদ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি ৩৫শ টাকা হলেও জনপ্রতি নেয়া হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা

    ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বিজ্ঞান শাখার বরাদ্ধকৃত যন্ত্রপাতি না কিনে টাকা আত্মসাৎ করা। অন্যান্য শাখার ব্যবহারিক পরীক্ষার ফি, সাবজেক্টের প্রভাষক ছাড়া তার অনুগত শিক্ষক নিয়ে দুইবারে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তা আত্মসাত করেন অধ্যক্ষ। কোন প্রকার নিলাম ছাড়াই কলেজের জমি অবৈধ দখলদারদের দিয়ে ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে তিনি।

    শান্তি বিনোদনের সরকারি অর্থ দেওয়ার কথা বলে প্রতি শিক্ষক কর্মচারীর কাছ থেকে নিয়েছেন ১৭শ টাকা।

    এসিআর ভালো দেওয়ার জন্য কিছু শিক্ষকদের কাছ থেকে ঘুষ দাবি করেছেন।
    ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেয়া বাবদ শত শত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২২০ টাকা থেকে শুরু করে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

    মসজিদ কমিটির আহবায়কের অনুমতি ছাড়া ফান্ডের টাকা উত্তোলন ও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে মসজিদের কাজ না করে প্রায় ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।

    তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেন অধ্যক্ষ।

    কলেজে আইসিটি শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিজ দায়িত্বে পুনরায় নতুন আইসিটি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ২ লাখ টাকাসহ অন্যান্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়োগ বাণিজ্য করেন।

    বর্তমানে কলেজের কোষাগার থেকে রিসিট ও নন রিসিপ্ট নামে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন- টাকা দিয়েও চাকরি না পাওয়া তিনজন ব্যক্তি। এদের মধ্যে একজন বেল্লাল আকন বলেন, ‘কলেজে দপ্তরি পদে চাকরির জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার হালদারকে নগদ ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। চাকুরি হবার পর ২ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা দিয়ে চাকরি পাননি বলে দাবি তারা।

    রোজিনা বেগম নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘দপ্তরি পদে চাকরির জন্য ২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছেন তিনি। বাকি দুই লাখ নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেয়ার কথা। আরেকজন নাসির হোসেন জানান, ‘তার ভাইয়ের বউ নাদিরার মাস্টার রুলে চাকরির জন্য নগদ দিয়েছেন ৪ লাখ। কথা ছিল ২-১ বছর পর চাকরি স্থায়ী হবে। কিন্ত টাকা দিয়েও আর চাকরি হয়নি তাদের।

    এসব কারণে শিক্ষার্থীরা অভিলম্বে দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তপন কুমার হালাদারের বিরুদ্ধে সকল ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে তাকে অপসারণ এবং স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ