২৫ বছর ধরে পানিবন্দী বরিশাল সিটির গাউয়াসা এলাকার বাসিন্দারা

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সুবিধা বঞ্চিত তিন নম্বর ওয়ার্ডের গাউয়াসা এলাকার বাসিন্দারা। যেখানের বাসিন্দাদের সিটি করপোরেশনের কর দিতে হয় নিয়মিত। কিন্তু উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে না। তাই বছরের পর বছর ধরে কাটাতে হয় জলাবদ্ধ জীবন। চলাচল করতে হয় নিজস্ব উদ্যোগে নির্মিত বেশ কয়েকটি সাঁকোর ওপর দিয়ে।
গাউয়াসা এলাকার বাসিন্দারা জানান, এখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই মোটেও। তাই এলাকার কেউ নিজেদের শহরের বাসিন্দা মনে করেন না। কারণ গ্রামের চারপাশে কচুরিপানায় ভরা। সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টির দিনে সাঁকো ডুবে গেলে বাড়ে পায়ে পায়ে দুর্ভোগ। প্রায় ৫০ টি পরিবারকে থাকতে হয় পানিবন্দী। বছরে প্রায় সারা সময় জমে থাকে বৃষ্টির পানি। বর্ষার সময় সম্পূর্ণ এলাকা থাকে পানির নিচে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ২৫ বছর ধরে এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বাইরে বের হতে গেলে ভিজতে হয় পানিতে। গ্রামের মনোয়ারা নামের এক নারী বলেন, একটি রাস্তাটি মেরামতের জন্য জনপ্রতিনিধিদের পায়ে ধরেছি। কিন্তু কাজ হয়নি।
গাউয়াসা গ্রামে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরও আছেন। ক্ষমতাসীন দলের লোকজনও আছেন। শুধু নেই কোনো উন্নয়ন। একটি পাকা সড়কও নেই সেখানে। মাটির সড়কে সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের দুর্ভোগ দেখা দেয়। তাছাড়া চলাচলের মাটির সড়কটির অবস্থাও বেহাল।
এছাড়াও এলাকায় শিশুদের জন্য নেই কোন খেলার মাঠ। একটু বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় তাদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগও। তাই সারাদিন ঘরবন্দি থাকতে হয় শিশুদেরও।
কেউ অসুস্থ হলে সহজে হাসপাতালেও নেয়া যায় না। তারপরেও সকল প্রতিক‚লতার সাথে মানিয়ে নেয়ার অবিরাম চেষ্টা চলে তাদের।
দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে নিজ অর্থায়নে সাঁকো বানিয়ে চলাচল করছেন তারা। এ নিয়েও সম্মুখিন হতে হয় বিভিন্ন সমস্যার।মেনে নেয়া আর মানিয়ে নেয়ার মধ্যেই চলে তাদের জীবন।
স্থানীয়রা বলছেন, জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রæতি দেন। কিন্তুকথা রাখেন না কেউ। শুধু ভোটের সময় জনপ্রতিনিধের ভিড় বাড়ে। এরপর হাওয়ায় মিলিয়ে যান তারা।
যদিও তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ফারুক জানিয়েছেন, রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনের পরে কাজ শুরু হবে।
এমএন