যুবলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে বরিশালের সন্তান বিশ্বাস মুতিউর রহমান

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে গঠন করা হয়েছে যুবলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। কমিটিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশকে চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে কো-চেয়ারম্যান এবং বরিশালের সন্তান বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশাকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নির্দেশে গত ৮ ডিসেম্বর যুবলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হওয়া বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর জন্মভূমি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল খালেক বিশ্বাস ও গৃহিনী আলহাজ্ব জোবেদা খাতুন দম্পতির সন্তান। পেশায় তিনি ঢাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রেণিত হয়ে ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে হাতেখড়ি নেন বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা। ১৯৮০-৮১ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ জেএসইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৪-৮৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন। এরপর ১৯৮৬-৮৮ সাল পর্যন্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন তিনি।
এছাড়া ১৯৮৮-৯০ সাল পর্যন্ত বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পদ, ১৯৯০-৯১ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২-২০০২ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর নেতৃত্ব দেন যুবলীগের।
২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-ত্রান ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা। এরপর ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুবলীগের উপ-শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৯০-১৯৯১ সাল পর্যন্ত সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের (বাকসু) সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ২০১৬-২১ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির।
এর বাইরে বিরোধী দলে এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি সামরিক স্বৈরাচার (জিয়া-এরশাদ) বিরোধী আন্দোলন, বিএনপি-জামায়াত বিরোধী আন্দোলন, ১/১১ প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা’র মুক্তি আন্দোলনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন বাকেরগঞ্জের বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা। এটি করতে গিয়ে হামলা-মামলা এবং নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
সবশেষ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের এই নেতা।
আলাপকালে বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করাই হচ্ছে যুবলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কাজ। এর পাশাপাশি সবকটি আসনে যাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নৌকা বিজয়ী হয় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশজুড়ে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে তা জনগণের মাঝে তুলে ধরবে যুবলীগ। এদিকে, বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা ছাড়াও বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা থেকে আরও বেশ কয়েকজন নেতা যুবলীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে স্থাপন পেয়েছেন।
এরা হলেন- যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বরগুনার সন্তান সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, পটুয়াখালীর সন্তান তাজউদ্দিন আহমেদ ও জসিম মাতুব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক বরিশালের জহির উদ্দিন খসরু ও পটুয়াখালীর অ্যাডভোকেট ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, যুবলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বরিশালের মাওলানা খলিলুর রহমান সরদার, উপ-শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক ভোলার কাজী খালিদ আল মাহমুদ টুকু, উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পটুয়াখালীর রাশেদুল হাসান সুপ্ত, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বরগুনার অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া শামীম, সহ-সম্পাদক বরিশালের সাইফুল আলম সাইফুল, পিরোজপুরের গোলাম ফেরদৌস ইব্রাহিম, বরিশালের ব্যারিস্টার আরাফাত হোসেন খান, রাজিব আহমেদ তালুকদার।
এছাড়া নির্বাহী সদস্য পিরোজপুরের মশিউর রহমান মহারাজ, কামরুজ্জামান খান শামীম, বরিশালের গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু, বরিশালের প্রকৌশলী আবু সাইদ মো. হিরো, ঝালকাঠির মানিক লাল ঘোষ, ভোলার ড. আশিকুর রহমান শান্ত ও অধ্যাপক আকরাম হোসেন এবং পটুয়াখালীর বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার।
এইচকেআর