বরিশালের ছয়টি আসনেই প্রার্থী হচ্ছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং তৃণমূল বিএনপিসহ ছয়টি আসনে ২০ জন দলীয় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফরম তুলেছেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, ‘নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ঘোষণা হলেও দলের মধ্য থেকে প্রার্থী হতে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। তাই আওয়ামী লীগ এবং নৌকা রক্ষা করতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় থাকবেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আগামী ৩০ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। আর তাই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শুরু করেছেন। সোমবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্ব›িদ্বতার জন্য ২০ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
এর মধ্যে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে মনোনয়নপত্র তুলেছেন আওয়ামী লীগ মনোনয়ন প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। আসনটিতে সোমবার পর্যন্ত অন্য কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।
তবে বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগ, তৃণমূল বিএনপি এবং জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোট চারজন এখন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন উজিরপুর উপজেলার মোরাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে মো. শাহজাহান সিরাজ।
এর বাইরে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন উজিরপুরের কেশবপুর গ্রামের মুনসুর আলী মৃধার ছেলে স্বপন মৃধা। এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন উজিরপুরের ভবানীপুর গ্রামের ফরকউদ্দিন আহমেদের ছেলে জহুরুল ইসলাম।
অপরদিকে, বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্ব›িদ্বতার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন চারজন। এদের মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দুজন দলীয় প্রার্থী। এরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে মনোনয়ন তুলেছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মো. টিপু সুলতান।
এছাড়া দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন- বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান এবং অপরজন মুলাদীর বাটামারা এলাকার ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক। এরা দুজনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
এদিকে, বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে এখন পর্যন্ত একটিমাত্র মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান নামের ব্যক্তি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এছাড়া বরিশাল সদর-৫ আসনে এখন পর্যন্ত তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, ন্যাশনাল পিপল পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তুলেছেন আব্দুল হান্নান সিকদার। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তুলেছেন সালাউদ্দিন রিপন। যিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে। যেখানে ৫ জনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা। অপর দুজন জাতীয় পার্টি এবং জাসদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেত্রী নাসরিন জাহান রতনা এবং জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মহসিন।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, রাজিব আহম্মেদ তালুকদার, জাকির হোসেন খান সাগর ও নুর-এ-আলম সিকদার, শাহরিয়ার মিঞা।
বরিশাল-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় অংশ নেয়া বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হতে দলীয় কোন বিধি-নিষেধ নেই। তাই দুই উপজেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। আশাকারী সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে মুলাদী-বাবুগঞ্জের জনগণ তাদের যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিবেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
এমএন