বরিশালে ডেঙ্গুতে ৪৮ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু

অসময়ে মাত্রাতিরিক্ত ডেঙ্গুআক্রান্ত নিয়ে চিন্তিত বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণত নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুআক্রান্তের সংখ্যা একেবারেই কমে যায়। কিন্তু চলতি বছরই ডেঙ্গুআক্রান্তের হার দিনকে-দিন বেড়েই চলছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে ৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও অনেক।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুআক্রান্ত হয়ে দুই নারীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৪ নারী রোগীর। এ নিয়ে গেলো ৪৮ ঘণ্টায় ৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এস এম মনিরুজ্জামান জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুর প্রভাব ছিল না বলেই চলে। কিন্তু এ বছর নভেম্বর মাসের গত ১৪ দিনেই ৫২৬ রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সব ধরনের চিকিৎসা এখানে হচ্ছে। কিন্তু অসময়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। তার চেয়ে জরুরি সকলকে সচেতন হওয়া।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে আরও ১৬৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালে সর্বোচ্চ ৮৫, পটুয়াখালীতে ১৫, পিরোজপুরে ৩৪, ভোলায় ৯, বরগুনায় ১৫ ও ঝালকাঠিতে আট জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৫৬৮ ডেঙ্গুআক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ দাস বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বরিশালের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৩৫ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৩৪ হাজার ৮৯৭ জন। বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৭৫ জন ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশালের দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩৪, ভোলা সদর হাসপাতালে ১০, বরগুনা সদর হাসপাতালে ৫, পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ১২, পটুয়াখালীর দুই হাসপাতালে ৮ ও ঝালকাঠি হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোধে সচেতনতাই জরুরি। মানুষ সচেতন না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যাবে না। বিভাগের সব সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গুরোগীদের গুরুত্ব দিতে। অসময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ অবশ্যই কার্যকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এমএন